বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়ও নেই: জোনায়েদ সাকি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩০আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৬

বক্তব্য রাখছেন জোনায়েদ সাকি (ছবি– প্রতিনিধি)

বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জায়গায়ও নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী। ৩০ ডিসেম্বর মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে তারা। আওয়ামী লীগের নেতাদের পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যেক ইউনিটই এজন্য দায়ী। পূর্বে যত নির্বাচন হয়েছে, সবচেয়ে খারাপ নির্বাচন হয়েছে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর।’

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ হলরুমে গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। জাতীয় সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে তার ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানান। কিন্তু নির্বাচনে কী দেখলাম আমরা—মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে তারা সব জায়েজ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কিন্তু এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সুতরাং তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়ও নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি কী পরিমাণ হচ্ছে তা সবাই দেখছে। প্রতিবছর বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। অন্য দেশে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করতে গেলে যে পরিমাণ খরচ হয়, বাংলাদেশে তার দ্বিগুণ খরচ হয়। উন্নয়নের নামে একের পর এক বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও লাভ হচ্ছে না।’

চলমান শুদ্ধি অভিযান সম্পর্কে সাকি বলেন, ‘জি কে শামীমরা সবার সামনেই অনিয়ম করে গেছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সবার সঙ্গেই তাদের ছবি আছে। এখন বলছেন—অনুপ্রবেশকারী। তারা মনে করছে, এই সরকার চিরস্থায়ী; তাই যা খুশি তাই করছে। এখন এমন একটা অবস্থা—প্রধানমন্ত্রী চাইলে আপনাকে ধরা হবে, আর না চাইলে দোষী হলেও ধরা হবে না।’

দুর্নীতিই এখন বাংলাদেশের নীতি হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক ন্যায়বিচার বলে কিছু নেই। দুর্নীতি বন্ধ করতে চাইলে পুরো কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। আর তা করতে হলে রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিবর্তন করতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তা না হলে এমন অবস্থা হবে যে, একদিন আওয়ামী লীগ নিজেও আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কঠিন ঝুঁকিতে পড়বে দেশ।’

গণসংহতি আন্দোলন পঞ্চগড়ের আহ্বায়ক সাজেদুর রহমান সাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন সরকার, মুসা কলিমুল্লাহ, আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী