সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে এক থানার পুলিশ অন্য থানা এলাকায় অভিযান চালানোয় পার্বতীপুরের এক এএসআই ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ওই দুই পুলিশ সদস্যকে দিনাজপুর পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়। ওই দুই পুলিশ সদস্য হলেন পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই জুয়েল হাসান ও কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম।
জানা যায়, প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য গত সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলবাড়ী পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন এম.আর অটোস নামের মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক মাসুদ রানাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আটক করতে যান। এ সময় পার্বতীপুর থানার পুলিশ ফুলবাড়ীতে কেন আসবে এ নিয়ে জনরোষের মধ্যে পড়েন। পরে সংবাদ পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে থানা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক মাসুদ রানা ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বড়পুকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ফুলবাড়ী মোটরসাইকেল মেকার্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগে ফুলবাড়ী মোটরসাইকেল মেকার্স ইউনিয়নের সভাপতি খোরশেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মানিক প্রসাদ দাবি করেন, চককরেয়া গ্রামের আলফাত হোসেনের ছেলে ও পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন এম.আর অটো গ্যারেজের মালিক মাসুদ রানাকে তার গ্যারেজ থেকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আটকের চেষ্টা চালায় দুই অপরিচিত ব্যক্তি। এসময় তারা মাসুদ রানাকে মারপিটসহ পিস্তল ঠেকিয়ে ইয়াবা বড়ি তার পকেটে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় গ্যারেজের অপর এক শ্রমিক চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সুলতান মাহমুদ বলেন, এএসআই জুয়েল হাসান ও কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে ফুলবাড়ী যাবেন এমন কোনও সংবাদ বা তথ্য দেননি। ঘটনার পর জানতে পারেন ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্য ফুলবাড়ী থানায় অবস্থান করছেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদেরকে দিনাজপুর পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক মাসুদ রানা একজন মাদক ব্যবসায়ী, এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতিও চলছে। তবে ওই দুই পুলিশ সদস্য ফুলবাড়ী থানা পুলিশকে জানিয়ে অভিযান চালালে ভালো হতো। কিন্তু তারা অভিযান সফল হওয়ার পর জানাবেন মনে করেছিলেন। এ বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।
ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মাসুদ রানা যে একজন মাদক ব্যবসায়ী, তাও তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এক থানা থেকে অন্য থানায় গিয়ে অভিযান পরিচালনার জন্য শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।








