নীলফামারীতে শীতের সঙ্গে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা

নীলফামারী প্রতিনিধি
১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:২১আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:০৩




শীতের কারণে বেড়েছে শিশুরোগীর সংখ্যা শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে উত্তরের জেলা নীলফামারীর শিশুরা। সদর আধুনিক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক দিনে ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত শিশুরোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু সফি মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৬ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ছিল ১৮ জন। এর মধ্যে বৃহম্পতিবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন চারজন। বর্তমানে ১৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তবে ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা রয়েছে মাত্র ১০টি।

এদিকে শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স জানান, বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ২৭ জন। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে ভর্তি হয় আরও দুইজন। তবে সকালে সাত শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ওয়ার্ডে ২২ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শীতের কারণে বেড়েছে শিশুরোগীর সংখ্যা নীলফামারীতে গত দুই দিনে তাপমাত্রা কমেছে। বৃহস্পতিবার ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

হাসপাতালের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু জারিফের মা কোহিনুর বেগম বলেন, আমার ছয় মাসের শিশু জারিফের হঠাৎ জ্বর-সর্দি শুরু হয়। তারপর হাসপাতালে ভর্তি করার পর ডাক্তার বলছে নিউমোনিয়া। তিনি বলেন, এই রকম ছোট ছোট বাচ্চা প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে। আবার অনেকেই বিছানা সংকটের কারণে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি দেড় বছরের শিশু মোহনা আকতারের মা স্মৃতি বেগম জানান, পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হলে ডাক্তার বলেন, শিশু ডায়রিয়া হয়েছে। ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, মোহনা আকতারের মতো অনেক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শীতের কারণে বেড়েছে শিশুরোগীর সংখ্যা নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু সফি মাহমুদ জানান, শীত বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে হাসপাতালে সরকারের দেওয়া পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে, চিকিৎসকও রয়েছে, তাই হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই।

হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এনামুল হক ও দীলিপ কুমার রায় বলেন, শীতকালে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এ সময় মায়েদের একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ভূমিকা ও শিশুর যত্ন ডাক্তারের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি কুয়াশার মধ্যে শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে না দেওয়া, গরম কাপড় পরানো এবং তাদের খাওয়া ও শৌচকাজে গরম পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান