কম খরচে লাভ বেশি, সরিষা চাষে বাড়ছে আগ্রহ

নীলফামারী প্রতিনিধি
২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:২৯আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:১৯

সরিষা ক্ষেত স্বল্প খরচ ও শ্রমে অধিক ফলন বেশি হওয়ায় দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন নীলফামারীর কৃষকরা। ধান আবাদ করে লোকসানে এবং বাজারে সরিষার দাম ভালো পাওয়ায়ও এ ফসলের আবাদ বাড়ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নীলফামারী জেলায় ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। ধান আবাদে অব্যাহত লোকসান হওয়ায় এক বছরের ব্যবধানে সরিষার আবাদ বেড়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।

জেলা সদরের খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা গ্রামের সরিষা চাষি লোকমান হোসেন বলেন, ‘এবার এক বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। বীজ রোপণের দুই-তিন মাসের মধ্যে সরিষা ঘরে তোলা যায়। এছাড়া খুব বেশি কষ্ট লাগে না। বেশি সারেরও প্রয়োজন হয় না। সার প্রয়োগের আগে ভালোভাবে একবার নিড়ানি দিলেই হলো।’

একই এলাকার রমজান আলী জানান, এক সময়ে নীলফামারীতে রের্কড পরিমাণ সরিষার আবাদ হতো। পরে সরিষার আবাদ থেকে সরে এসে ধান আবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েন কৃষক। ফলে এ অঞ্চলে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায় সরিষা আবাদ। তবে বছরের পর বছর ধানে লোকসান হওয়ায় কৃষক এখন আবার সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলার প্রায় সব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন হলুদ আর সবুজের সমাহার।

সরিষা ক্ষেত তিনি বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলন হবে। গত তিন মৌসুমে ধান আবাদে লোকসানের কারণে সবজি চাষের পাশাপাশি আবার সরিষা আবাদ করেছেন।

সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের দোনদরী গ্রামের সবুজ আলী বলেন, ‘ধান আবাদে কোনও লাভ নেই, উৎপাদন খরচই উঠে না। সরিষা আবাদে খরচ কম লাভ বেশি। এক থেকে দুই বার সেচ দিলে চলে। বাজার দর ভালো হলে একমণ সরিষা ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এ কারণে আমি আর ধান আবাদে যাচ্ছি না। একমণ ধান ৬০০ টাকা আর একমণ সরিষা ১৭০০ টাকা। ধান কেন আবাদ করতে যাবো?’

তিনি বলেন, ‘সরিষা চাষ করে মানসম্মত ভোজ্য তেল খাবো। আবার ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হবো। আগামীতে সরিষার পাশাপাশি শাক সবজির চাষের পরিকল্পনা করেছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালকনিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, কৃষকের এই উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। জমির উর্বরতা ধরে রাখতে সরিষার আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এজন্য অধিকাংশ কৃষক এখন সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া অল্প পরিশ্রমে অধিক ফসল ঘরে তোলা যায়।

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী