রৌমারীতে মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাঁধা দেওয়ায় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ীরা মাজেদা খাতুন (৩০) নামে এক নারীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মুনতাসির বিল্লাহ এ কথা জানান।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম উত্তর আলগারচরের গোলাম রব্বানী (৬০), তার ছেলে আবুল কাশেম (৩০) ও একই এলাকার মৃত মিলন শেখের ছেলে আ. সালাম। তাদের মধ্যে গোলাম রব্বানী এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্যের দাবি, অভিযোগকারী নারী মাজেদা বেগম এবং অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
ওই নারী জানান, জীবিকার তাগিদে স্বামী সাইফুল ইসলাম ও দুই ছেলে মাসুদ রানা ও মারুফ হাসান দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকায় থাকেন। একমাত্র মেয়ে শিলা আক্তারকে (১১) নিয়ে তিনি বাড়িতে একাই থাকেন। এ সুযোগে ২ মাস ধরে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আবুল কাশেম নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আসর বসায় এবং মাদক বিক্রি করে। এক পর্যায়ে তিনি এ কাজের বিরোধীতা করলে মাদক কারবারি কাশেমের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত কাশেমসহ কয়েকজন মিলে তার বাড়িতে হামলা চালায়। অভিযুক্তরা তার আসবাবপত্র ভাঙপুর ও তছনছ করে এবং ঘরে রাখা নগদ টাকা নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় ওই নারী বাড়ির বাইরে লুকিয়ে থেকে সব দেখেন। মাদক ব্যবসায়ীরা তার বাড়িতে ঘণ্টাব্যাপি তাণ্ডব চালায়। এক পর্যায়ে মেয়ে শিলা এসে এ অবস্থা দেখে ভয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশিদের কয়েকজন এগিয়ে আসে। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার বিকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, থাকার ঘরের দু-দরজার তালা ভাঙা, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙা ও ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে এবং শো-কেসের ড্রয়ারগুলো খুলে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ছেলের মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনে জড়িত থাকার কথা ও ওই বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের কথা এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন অভিযুক্ত গোলাম রব্বানী। তবে এ হামলার পেছনে মাদক ব্যবসার টাকার লেনদেন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রব্বানী বলেন, ‘দুই মাস আগে তার ছেলে কাশেমের কাছ থেকে দুই হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বাকিতে নেয় অভিযোগকারী মাজেদা। যথা সময়ে ওই টাকা পরিশোধ না করায় মাজেদার সঙ্গে ছেলে কাশেমের বিরোধ দেখা দেয়।’ মাদক বিক্রি বাবদ পাওনা টাকার জন্য ছেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। কাশেম ছাড়া এ ঘটনায় সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন গোলাম রব্বানী।
ঘটনাস্থল থেকে একশ গজ দূরে অবস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়দার আলীর বাড়ি। ঘটনার বিষয়ে হায়দার আলী বলেন,‘ঘটনাটি ওই নারীর বাবার কাছে শুনেছি তবে দেখতে যাইনি।’ রব্বানীর ছেলে কাশেম এবং মাজেদা উভয়েই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানায় এই ইউপি সদস্য।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মুনতাসির বিল্লাহ জানান,‘মাজেদা বেগমের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকায় মাদকের প্রভাব রয়েছে। বুধবার থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে।’








