উত্তরাঞ্চলে অটিস্টিকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে অটিস্টিক শিশুসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুরা বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে অনেক শিশু স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।
শিশু বিকাশ কেন্দ্রের সুপারভাইজার নুরজাহান বেগম জানান, প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনেরও বেশি রোগী আসছেন। দশ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসাসেবা নেওয়া যায়। এখানে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ, একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন থেরাপিস্টসহ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে।
শিশু বিকাশ কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. সালাম জানান, এখানে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে শিশুরা আসে। যাদের মনোরোগ চিকিৎসা অথবা থেরাপি দরকার হয়। তাদের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
শিশু বিকাশ কেন্দ্রের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আহাদ শাহ জানান, এটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে অটিস্টিক বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। তিনি নিজেও অটিস্টিকের ওপর আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। তার অনুপ্রেরণা আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শিশু বিকাশ কেন্দ্র খেলা হয়েছে। এখানে শিশুদের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহাম্মেদ বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের দুই কোটি মানুষের এ অঞ্চলে অটিস্টিকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যার সুফল পাচ্ছে এ অঞ্চলের শিশুরা।’
নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে এসেছেন লাইলী বেগম। তিনি জানান, তার একমাত্র ছেলে ৬ বছর বয়স হওয়ার পরও হাঁটতে পারে না। অনেক চিকিৎসা করেও কোন কাজ হয়নি। খবর পেয়ে শিশু বিকাশ কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থেকে আসা জামিয়া সুলতানা জানান, তার একমাত্র ছেলে কথা বলতে পারে না। ৭ বছর বয়স। তিন মাস ধরে শিশু বিকাশ কেন্দ্রে চিকিৎসা করাচ্ছেন। বেশ উন্নতি হয়েছে।
রংপুরের পীরগাছা থেকে ১২ বছরের শিশু সন্তান সজিবকে নিয়ে আসা বাবা মোসলেম উদ্দিন জানান, তাদের একমাত্র সন্তান কথা বলতে পারে না। অস্বাভাবিক আচরণ করে একটুতেই রেগে যায়। শিশু বিকাশ কেন্দ্রে চার মাস ধরে চিকিৎসা চলছে তার। থেরাপি দিচ্ছেন চিকিৎসক। পাশাপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তাকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। জিনিসপত্র ভাঙা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে কথা বলতে না পারার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে এসেছেন দিনাজপুর থেকে মমতাজ বেগম, লালমনিরহাটের সালেহা সুলতানা ও পঞ্চগড় থেকে লাজনুর রহমান। তারা জানান, তাদের সন্তানেরা আগে ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না, এখন থেরাপি দেওয়ার পর অনেকটা ভালো বলেই মনে হচ্ছে।
লালমনিরহাটের দহগ্রাম আঙ্গরপোতা ছিটমহল থেকে আসা মনিরা বেগম জানান, তার মেয়ের বয়স ৮ বছর। এখনও কথা বলতে পারে না। বসতে পারে না।
আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত উত্তরাঞ্চলের শিশুদের চিকিৎসাসেবা আরও বাড়ানো হোক, এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।








