নামেই মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
০৬ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৫৭আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৩:১৬

 

মডেল সরকারি বিদ্যালয় পঞ্চগড় শহরের প্রাণকেন্দ্রেই মডেল সরকারি বিদ্যালয়ের অবস্থান। নামে মডেল হলেও স্কুলে নেই সীমানা প্রাচীর। স্কুলের সামনেই দোকানপাট ও পৌরসভার ডাস্টবিন। দখল করে নেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের জমি। পাঠদান ও ফলাফল ভালো হলেও  অবকাঠামো ও পরিবেশগত দিক থেকে নাজুক পরিস্থিতি রয়েছে বিদ্যালয়টি। মডেল বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা সেসব নেই। বিদ্যালয়টি শুধু নামেই ‘মডেল বিদ্যালয়’।

১৯২০ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৮৫ সালে এ বিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১২ ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর তিন কক্ষের একতলা একটি ভবন ও দুই কক্ষের টিনশেড একটি ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ভবন দু’টিকেও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ না করায় পরিত্যক্ত ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। এছাড়া আসবাবপত্র ও শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠটিও ঠিক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না।

স্কুলের প্রবেশ পথ সরেজমিন দেখা গেছে, পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন ধাক্কামারা মোড়ে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে দু’পাশে দোকানপাট, এক পাশে একটি ক্লাব ও সমাজসেবা অধিদফতরের অফিস, পৌরসভার ডাস্টবিন।  

বিদ্যালয়ের একতলা ভবনের পশ্চিম দিকের কিছু জায়গা বাংলাদেশ টেকনোলজি ফাউন্ডেশন দখল করে ঘিরে রেখেছে। তারপাশেই রয়েছে শহর সমাজসেবা অফিস ও  ধাক্কামারা ক্লাব। ক্লাবের সামনে পিলার বিক্রির একটি দোকান।  বিদ্যালয়ের একতলা ভবনের পূর্বদিকে দু’কক্ষের একটি টিনশেড ভবন। যেখানে প্রাক-প্রাথমিক শাখার শ্রেণিকক্ষের সামনে পৌরসভার একটি ডাস্টবিন রয়েছে। তার পাশেই রয়েছে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের অফিস। স্থানীয় লোকজন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে  কথা বলে জানা গেছে, একতলা ভবনটির একটি কক্ষে বিদ্যালয়ের অফিস রয়েছে। অফিস কক্ষে চেয়ার-টেবিল, বই-পুস্তক ও বিভিন্ন প্রকার পুরস্কার রাখা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকেরও কোনও আলাদা কক্ষ নেই। এ ভবনেরই দু’টি কক্ষ ও টিনশেড ভবনের কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে।

স্কুল ভবন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল হাসিব বলে,  ‘সবসময় ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। আমাদের শ্রেণিকক্ষের সংকট খুব বেশি। চেয়ার-বেঞ্চ নেই, তাই ক্লাসে আমাদেরকে গাদাগাদি করে বসতে হয়।’

একই ক্লাসের তানহা মেহেজাবীন বলে, ‘আমাদের বিদ্যালয়টি মহাসড়কের ওপর। তাই রাস্তা পারাপারে কষ্ট হয়। এছাড়া আমাদের এখানে সীমানা প্রাচীর নেই একারণে যানবাহনের হর্নসহ নানা শব্দ আসে।’ 

স্কুলের জমি দখল করে বেড়া দেওয়া হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী স্নেহা আকতার বলে, ক্লাসের সামনে ডাস্টবিন। অনেক গন্ধ আসে। এক বেঞ্চে ৫ জনেরও বেশি বসতে হয়। এতে লেখা ও পড়া দুটোই সমস্যা হয়।

আওলাদ হোসেন বাবু নামে অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি মডেল বিদ্যালয়। অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ সংকট, স্যানিটেশনসহ নানা সমস্যায় বিদ্যালয়টির বেহাল দশা। 

স্কুলের পাশে ক্লাব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল হক মনির জানান, ১ জানুয়ারি তিনি এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ২৫০ জনেরও বেশি এ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। পরিত্যক্ত, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ চারটি কক্ষে কোনোমতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠদান চলছে। এ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোনও লাভ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক জানান, প্রধান শিক্ষককে খোঁজ খবর নিতে বলা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অধিদফতরের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

 

 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি