সূর্য ওঠায় দিনাজপুরের হিলিতে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। তবে কমেনি শীতের প্রকোপ। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা শীতের মাত্রা যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে তেমনি ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। শীতের কারণে রোজগার কমায় বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা।
সকাল ১০-১১টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারপাশ। এসময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়তে থাকে। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট চালিয়ে যান চলাচল করে। শীতে কষ্ট পাচ্ছেন বয়স্ক-শিশু, হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা। শীতের জন্য কাজে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া লোকজন। বুধবার থেকে সূর্যের দেখা মেলায় দিনের বেলা তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রাতে ও সকালে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে।
হোটেল শ্রমিক রমজান আলী বলেন, ‘আমরা হোটেলে কাজ করি। যার কারণে অনেক সকালে আমাদের কাজে আসতে হয়। একে তো শীত তার ওপর প্রচণ্ড কুয়াশা। এই শীতের মধ্যে আমাদের কাজ করতেও সমস্যা হচ্ছে। হাত পা ঠান্ডায় বরফের মতো হয়ে যাচ্ছে। খুব ঠান্ডা লাগে, সকালে ঘুম থেকে উঠতেও মন চাই না। তারপরও বাধ্য হয়ে আসতে হয়। তবে ঠান্ডার কারণে কাজ করতে মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।’
রিকশা ও ভ্যানচালক আসলাম হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম জানান, ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে চলাফেরা করা যাচ্ছে না। ভ্যান ও রিকশা চালাতেও সমস্যা হচ্ছে। ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে মানুষজন তেমন একটা বের হচ্ছে না। আমাদের আয় রোজগার অর্ধেকে নেমে গেছে, সেইসঙ্গে শীতের কারণে নানা অসুখ হচ্ছে।
সিএনজি ও ইজিবাইক চালক রেজাউল করিম ও মনির হোসেন জানান, কুয়াশার কারণে গাড়ি চালাতে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ৫ হাত সামনে কী আছে সেটাও দেখা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে শীত ও কুয়াশার কারণে দুপুর পর্যন্ত তেমন মানুষজন বের হয় না। যাত্রী কমে যাওয়ায় আয়ও কমে গেছে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম জানান, দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হিলিতে প্রতিবছরই শীতের প্রকোপ বেশি থাকে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের মতো কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।








