কৃষক নয়, ব্যবসায়ীদের ধান যাচ্ছে গুদামে!

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
২০ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:১৭ আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৩৯

গুদামে রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা ধান নিয়ে এসেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুরে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, কৃষকরা সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। তাদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের ধান যাচ্ছে গুদামে।  ফলে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনার সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে উলিপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে গিয়েও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা ৮-১০টি ট্রলিতে বোঝাই করে ধান গুদামে ঢুকাচ্ছেন। সেখানে কোনও কৃষককে পাওয়া যায়নি।  সাংবাদিক দেখে ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে অনুরোধ করে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তারা এ ধরনের কাজ আর করবেন না। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধও করেন।

জানা গেছে,  সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষক যেন ভালো মুনাফায় ধান বিক্রি করতে পারেন সেজন্য উলিপুরেও খাদ্য অধিদফতর ইউনিয়ন পর্যায়ে লটারির ব্যবস্থা করা হয়। লটারিতে জয়ী কৃষকরা এক টন করে ধান বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু লটারি জয়ী কৃষকের কৃষি কার্ড এক থেকে দেড় হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছেন প্রভাবশালী মহলের আর্শিবাদপুষ্ট ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। আর খাদ্য বিভাগের দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তার এতে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।

গুদামে রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা ধান নিয়ে এসেছেন উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে আমন ধান সংগ্রহ শুরু হলেও উলিপুরে শুরু হয় ১৯ ডিসেম্বর থেকে। উপজেলায় সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫৬৪ মেট্রিকটন। এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৯৯ মেট্রিকটন।

খাদ্য গুদামের একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহলের আর্শিবাদপুষ্ট ও গুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ট্রলি বোঝাই ধান এনে গুদামে ঢুকাচ্ছেন।

খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখবো।’ পরবর্তীতে তিনি জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়ে ধান বোঝাই ট্রলিগুলো গুদাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

গুদামে রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা ধান নিয়ে এসেছেন

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার বর্মনের মোবাইলে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি জানা মাত্র উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।’

 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ছাত্রলীগ নেতাকে ডেকে নিয়ে কেটে দিলো হাত-পায়ের রগ, অবস্থা আশঙ্কাজনক
ছাত্রলীগ নেতাকে ডেকে নিয়ে কেটে দিলো হাত-পায়ের রগ, অবস্থা আশঙ্কাজনক
চীনা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কতটা যাচ্ছে বাংলাদেশিদের হাতে?
চীনা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কতটা যাচ্ছে বাংলাদেশিদের হাতে?
মিশর ভ্রমণে বাড়ছে খরচ, ২০২৭ সালে ভিসা ফি ৩৩ ডলার
মিশর ভ্রমণে বাড়ছে খরচ, ২০২৭ সালে ভিসা ফি ৩৩ ডলার
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
সর্বাধিক পঠিত
প্রথম হলেন শ্রাবন্তী, বললেন মায়ের জন্যই এতদূর আসতে পেরেছি
প্রথম হলেন শ্রাবন্তী, বললেন মায়ের জন্যই এতদূর আসতে পেরেছি
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
এনসিপিতে নতুন পরিচয়ে সারজিস আলম
এনসিপিতে নতুন পরিচয়ে সারজিস আলম
প্রাথমিকে নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন শিক্ষামন্ত্রী 
প্রাথমিকে নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন শিক্ষামন্ত্রী 
আকাশসীমার অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান, থমকে আছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন
আকাশসীমার অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান, থমকে আছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন