দিনাজপুরের আত্রাই নদীর খননকৃত বালুর সঙ্গে বাঁধের বালু বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের গণেশতলা এলাকার মোসাদ্দেকুল ইসলাম এই বালু কম দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন অন্য ইজারাদাররা। এরপরই সবার নজরে আসে বিষয়টি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই বালু আবার সরকারি রাস্তার কাজে বিক্রিও করেছেন তিনি। এক কথায় সরকারি বালু যাচ্ছে সরকারি কাজে তবে অর্থের বিনিময়ে।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার মোহনপুর রাবার ড্যাম থেকে চিরিরবন্দর ভুষিরবন্দর এলাকা পর্যন্ত নদীর নাব্যতা বাড়াতে কাজ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) ইজারাদার। সদর উপজেলার পাঁচবাড়ি ব্রিজের দক্ষিণ পাশে কাজ হচ্ছে। কিছুটা উত্তর দিকে কয়েকটি ট্রলি সেই বালু নিয়ে যাচ্ছে। এই বালু আবার যাচ্ছে পাশের সরকারি সড়ক সংস্কারের কাজে।
জানা গেছে, গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নদী থেকে ড্রেজিংকৃত বালু বিক্রির বিজ্ঞপ্তি দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এই কাজ পায় জেলা শহরের গণেশতলা এলাকার মোসাদ্দেকুল ইসলাম। এরপর রাজস্ব জমা দিয়ে তিনি বালু তুলে বিক্রি শুরু করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে তিনি বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমে বালু বিক্রি করছেন। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন অন্যরা।
এই ঘটনায় গত ১৪ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও করেন আত্রাই নদীর বালুমহালের ইজারাদার আলতাফ হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই বালু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ট্রলি দরে। যেখানে প্রতি ট্রলি বালুর বর্তমান বাজারমূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। কারণ সহজে বাঁধ কেটে বালু বিক্রি করা হচ্ছে।’
দায়িত্বে থাকা ইজারাদার মোসাদ্দেকুল ইসলামের ভাতিজা হামিদুর রহমান জানান, তারা প্রতি ট্রলি বালু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
ইজারাদারের আরেক ভাতিজা রমজান আলী বলেন, ‘জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানানোর পর প্রতি ট্রলি বালু এখন দাম বাড়িয়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানে কোনও ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না।’
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মাহফুজুল আলম বলেন, ‘খনন কাজ চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। এই বালু সরকারি সংস্থার কাজে বিনামূল্যে এবং ব্যক্তিগত হলে অর্থের বিনিময়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এই নদী খনন ও বালু বিক্রির জন্য বেশ কয়েকজন আবেদন করে। সেখান থেকে একজনকে নিয়ম মেনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত সেখান থেকেই তারা ক্রয় করছে।’
বাঁধ কাটার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তারা কোথায় বালু উঠিয়েছে সেটি আমরা দেখিওনি। তাদের নীতিমালা অনুযায়ী তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এটা আমাদের বিষয় না। এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা খুবই কম।’
বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) আসম মাশরেকুল আরেফিন জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। বিষয়টি আমলে নেওয়া হবে কিন্তু সময় লাগবে। বাঁধ কেটে নেওয়ার কোনো অপশন নাই। সরেজমিনে গিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাঁধ না কাটার জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে।’








