চীনফেরত লালমনিরহাটের কালিগঞ্জের এক যুবককে রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে এর আগে রংপুর মেডিক্যালে ভর্তি চীনফেরত আরেক রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর মেডিক্যালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ও মুখপাত্র সহকারী অধ্যাপক ডা. নারায়ণ চন্দ্র ।
ডা. নারায়ণ চন্দ্র জানান, লালমনিরহাট থেকে আসা রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরে জ্বর এবং শ্বাস কষ্ট আছে। সে বেশ কয়েকবার বমি করেছে। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর পরামর্শক্রমে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হবে।
এই চিকিৎসক আরও জানান, শনিবার থেকে যে শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নেই। তবে রক্ত ও লালা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় রোগতত্ত্ব বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়ার আশা করছি। প্রতিবেদন পেলেই বিস্তারিত জানানো হবে।
ব্রিফিংয়ে মেডিক্যাল বোর্ড প্রধান অধ্যাপক ডা. দেবেন্দ্র নাথ সরকারসহ বোর্ডের অন্য সদস্যরা এবং হাসপাতালের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ এলাকার এক যুবক সম্প্রতি চীন থেকে দেশে ফিরে বাসায় অবস্থানকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে রবিবার রাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসাধীন দুজনকে দেখতে আসেন ১২ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. দেবেন্দ্র নাথ বোর্ডের নেতৃত্ব দেন। অধাঘণ্টাব্যাপী সেখানে অবস্থানের পর পরীক্ষা শেষে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন বোর্ডের সদস্যরা। এরপর ওই দুই রোগীর বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
এদিকে, লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় পাঠানো চীনফেরত শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই রোগী চীন থেকে এসেছেন বলেই আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তবে তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের কোনও লক্ষণ নেই। তিনি অসুস্থ, তার কিডনির সমস্যা রয়েছে। বমি এবং কিডনির সমস্যা নিয়ে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন। চীন থেকে আসার হিস্ট্রি আছে বলেই তাকে কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। তার আক্রান্ত কিডনি যেন আরও বড় আকার ধারণ না করে সেজন্য ঢাকায় আনা হচ্ছে।’
এর আগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চীনফেরত আরেক শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট ছিল বলে আমাদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু, পরীক্ষা করে তা ধরা পড়েনি।’








