করোনা সংকটে হাওরে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ে পাঠানো গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ৪৫ জন শ্রমিক কাজ শেষ না করেই বাড়িতে ফিরে আসেছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, বৃষ্টি-পানির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ধান-কাটলেও তাদের মজুরি দেওয়া হচ্ছে কম। তাছাড়া থাকা-খাওয়ার তেমন কোনও ব্যবস্থা না থাকা এবং বিশুদ্ধ পানি ও পয়নিষ্কাশনের সমস্যা থাকায় ধান কেটে শেষ না করেই তারা ফিরে এসেছেন।
জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা (বকশিগঞ্জ ভিটা) গ্রামের ৪৫ জন শ্রমিককে ধানকাটতে পাঠানো হয় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহুলি ইউনিয়নে। সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় বাসে করে তাদের সেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে সেখানকার জনপ্রতিনিধি ও কৃষি কর্মকর্তদের নির্দেশনায় হাওরের মদনাকান্দি ও দুর্গাপুর এলাকায় ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা জানান, বেহুলি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও একজন সদস্য তাদের হাওরের ফাঁকা এলাকার একটি স্কুল ভবনে থাকার ব্যবস্থা করেন। সেখানে অবস্থান করে দুটি গ্রুপে ৪৫ জন শ্রমিক হাওরে কৃষকদের জমির ধান কাটা শুরু করেন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে আসা-যাওয়া করে ঝড়-বৃষ্টিতে ধান কাটতে হয় তাদের। চুক্তি অনুযায়ী এক বিঘা জমির ধান কেটে সাত ভাগের একভাগ ধান মজুরি হিসেবে শ্রমিকদের দেওয়ার কথা কৃষকদের।
তাদের অভিযোগ, চার দিনে ৪০ বিঘার বেশি জমির ধান কাটা-মাড়াই করেন তারা। কিন্তু মোট ধানের সাত ভাগের একভাগ ধানের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক মালিকরা তাদের দেননি। এছাড়া ধান কাটতে অনেক সময় নিজেদের টাকায় ট্রলার ভাড়াসহ খাওয়া-দাওয়া করতে হয় বলেও তাদের অভিযোগ।
বকশিভিটা গ্রামের শ্রমিক ফজলু মিয়া বলেন, 'করোনায় লকডাউন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি থাকলেও প্রশাসনের বিশেষ ব্যবস্থায় হাওরে ধান কাটা-মাড়াইয়ে যাই আমরা। কিন্তু সেখানে সুযোগ-সুবিধা তো দূরের কথা সংক্রমণ এড়াতে বিধি-নিষেধ ছাড়া কোনও কিছুই দেওয়া হয়নি। একটি স্কুলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেখানে পানি ও পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। এতে ছয়দিন আমাদের কষ্টে থাকতে হয়েছে।'
শাহিন নামে অপর এক শ্রমিক বলেন, 'দুটি গ্রুপে ৪০ বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াই করি আমরা ৪৫ জন। এতে সাত জন জমির মালিককে মজুরি হিসেবে ১৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু মালিকরা প্রায় সাত হাজার টাকা কেটে নেয়। খেয়ে না খেয়ে বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটতে হয় আমাদের। হাওরে ট্রলারে আসা-যাওয়াও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। থাকার কষ্ট ছাড়াও রান্না করে খাওয়ার কোনও ব্যবস্থা ছিলো না। হাঁড়ি-পাতিল দেয়নি কেউ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে আমাদের।'
এদিকে, হাওর থেকে বাড়ি ফেরা শ্রমিকদের গত বুধবার দুপুরে দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীনেওয়াজ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারিয়া খান বিপ্লব। এ সময় শ্রমিকদের সব অভিযোগ খতিয়ে দেখের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তারা। এছাড়া শ্রমিকদের সহায়তার আশ্বাস দেন।
অভিযোগের বিষয় জানতে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি দামোদরপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলামকে। তবে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন বলেন, 'হাওরে ধান কাটার মজুরি থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন সুবিধার বিষয় আলোচনা করে শ্রমিকদের পাঠানো হয়। কিন্তু কম মজুরি আর নানা সমস্যায় বাড়ি ফেরন তারা। এ অবস্থায় কর্মহীন ও অভাবী কৃষি শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণসহ তাদের পরিবারকে সহায়তা করা হবে।'







