বর্ষণ ও ঢলে ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপরে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
২৬ জুন ২০২০, ১৪:২৭আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ১৫:১৫

চিলমারী নদীবন্দর


উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে কুড়িগ্রামে ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুই নদীর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ওই দুই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুই নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষি জমিসহ চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টায় ধরলার পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সেতু পয়েন্টে বিপদ সীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও চিলমারী পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৫-৬ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এতে মাঝারি আকারে বন্যা দেখা দেবে। 

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সদর উপজেলার ধরলা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলসহ ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার যাত্রাপুর, ভোগডাঙ্গা ও ঘোগাদহ ইউনিয়ন এবং নাগেশ্বরী, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 
যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তার ইউনিয়নের পোড়ার চর, ঝুনকার চর এবং চর কালির আলগার প্রায় শতাধিক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। 
উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মশালের চরসহ ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। তবে তীব্র নদী ভাঙনের ফলে মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ওই ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। 

বেড়েছে নদীর পানি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, আগামী কয়েকদিন পানি অব্যাহত বৃদ্ধি থাকবে। এতে জেলার সদর উপজেলাসহ নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার বেশ কিছু অঞ্চলে মাঝারি আকারে বন্যা দেখা দেবে। 

জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার প্রশাসনের তরফ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম