স্বামীর যৌতুক হিসেবে দাবি করা ২০ লাখ টাকা না দেওয়া ও অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক সন্দেহে প্রতিবাদ করায় মাফরুহা আখতার নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন করে আড়াই বছরের কন্যা সন্তানসহ গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের দিয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তা পাষণ্ড স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর ধাপ কাকলী লেন এলাকায়।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের দেড় মাস পরও আসামিকে গ্রেফতার দূরের কথা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রাজিফুজ্জামান বসুনিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পর্যন্ত যাননি বলে অভিযোগ নির্যাতিতা নারীর।
তার অভিযোগ ওই পুলিশ কর্মকর্তা আসামি পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় আসামি তার বাড়িতে অবস্থান করছে এবং প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে ওসি রাজিফুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে থানায় তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলবেন না বলে জানান। আরও যোগ করেন, হাজার হাজার ঘটনা আছে তারপরও এটা নিয়ে এত আগ্রহ কেন?
এদিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান কোনও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের হলে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অফিসে লিখিতভাবে জানাতে হবে। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাও করেননি বলে অভিযোগ মাফরুহার।
নির্যাতিতা নারী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্থপাড়া গ্রামের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনসুর আলী মণ্ডলের কন্যা মাফরুহা আখতারের সঙ্গে রংপুর নগরীর ধাপ কাকলী এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে মামুনুর রহমান মামুনের বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। মাফরুহা রুপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, অন্যদিকে মামুন বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। দুজনই ধাপ কাকলী লেনের বাসায় থাকতেন। তাদের আড়াই বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই মাফরুহার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের বাসার তৃতীয় তলা নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় প্রায়ই মাফরুহাকে নির্যাতন করতো মামুন।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মামুন। প্রায় প্রতিদিনই মোবাইলে কথা বলা, ম্যাসেজ আদান-প্রদান, ছবি বিনিময়সহ তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতেনাতে ধরে ফেলায় আবারও নির্যাতন শুরু করে মাফরুহার ওপর। মামুনের সেই সম্পর্কের ছবি, অডিও ভাইরাল হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর কার্যালয়ে তোলপাড় শুরু হয়।
ঘটনাকে আড়াল করতে স্বামী মামুন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আবারও মাফরুহাকে হাত পাঁ বেঁধে নির্যাতন করে। বাধ্য হয়ে ২০/০৫/২০ ইং তারিখে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়রি করেন মাফরুহা। যার নম্বর ৬৯৬। এরপর আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মাফরুহাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। পর দিন রাত ১১টার দিকে আশপাশের শত শত মানুষের সামনে নির্যাতন করে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে এসে স্থানীয় ক্লিনিক ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা নিয়ে গত ১ জুলাই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন মাফরুহা।
এরপর দেড় মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ আসামি মামুনকে গ্রেফতার করেনি। উল্টো মামুন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করছে বলে মাফরুহার অভিযোগ। নির্যাতিতা বলেন, মামলা তুলে না নিলে মামুন তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তার।








