করোনা সংক্রমণ রোধে পথচারীদের হাত ধোয়ার জন্য নীলফামারীর ছয় উপজেলায় ২০টি বেসিন স্থাপন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। এরমধ্যে সদরে ১০ এবং বাকি পাঁচ উপজেলায় ২টি করে ১০টি। প্রতিটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৩০ হাজার টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকা। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর উপ সহকারী প্রকৌশলী চন্দ্র কিশোর রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কিন্তু সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, ওইসব বেসিনের একটিও সচল নেই। কোথাও স্থাপনের সাত দিনের মধ্যেই অকেজো, আবার কোথাও পানি থাকলেও নেই সাবান। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রাস্তার পড়ে আছে বেসিনগুলো।
অথচ জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটা করে রাস্তায় ব্লিচিং পাউডার, মশা নিধন, মাস্ক সরবারহ, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের খাদ্য সরবারহ’সহ করোনা প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়। কিন্ত এখন এসবের ভাটা পড়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে প্রথম শর্ত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার প্রধান উপকরণ বেসিনগুলো অলস পড়ে আছে।
জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু চত্বরে বসানো হয়েছে জনস্বাস্থ্যের তৈরি স্থায়ী পানির (ট্যাপ) ট্যাংক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পথচারী জানান, প্রথম কিছু দিন ভালো ছিল। সেখানে সাবান, পানি সবই ছিল। তারপর আর কে কার খবর রাখে। এক প্রশ্নের জবাবে ওই পথচারী বলেন, নীলফামারীতে দিন দিন করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। শুনেছি এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৮৫৪ জন। তাহলে কি করোনা চলে গেছে?
জেলা শহরের চৌরঙ্গীর মোড়ে রয়েছে স্মৃতি অম্লান চত্তর, সোনালী ব্যাংক ও রেজিস্ট্রি অফিস। পাশেই শহীদ মিনার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা। সেখানে মসজিদের সঙ্গে একটি বেসিন বসানো হয় নামেমাত্র। মসজিদের ওজুখানায় পানি থাকলে বেসিনেও পানি থাকে। তবে নেই কোনও সাবান। বেসিনের পাশে বসেই কাজ করেন জুতার কারিগর রাম চন্দ্র রায়। তিনি জানান, করোনা শুরুর প্রথম দিকে সাবান দেওয়া হয়েছিল। এখন করোনা নাই, তাই সাবান দেওয়া না। মাঝে মাঝে পানিও থাকে না।
জেলা শহরের বড় বাজার ট্রাফিক মোড় এলাকার ফল ব্যবসায়ী আজিবর রহমান জানান, একটি ১ হাজার লিটারের পানির ট্যাংক বসানো হয়েছিল। সঙ্গে সাবানও সেট করা ছিল। লাইন ধরে পথচারীদের হাত পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। এখন সেখানে পানির ট্যাংক আছে, কিন্তু পানি নেই, সাবানও নেই। এগুলো এখন আর কেউ দেখতে আসে না।
নীলফামারী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান জানান, করোনার শুরুতে গাছবাড়ী, ডাইলপট্টি, বাজার ট্রাফিক মোড়, মরাল সংঘের মোড়, মকবুল হোসেন সুপার মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট, আনন্দ বাবুর পোল, মাধার মোড় ও পিটিআই মোড়ে হাত ধোয়ার ট্যাংক দেখা গিয়েছিল। তখন পৌর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে খুব সর্তক ছিল। এখন সবই ঢিমেতালে চলছে।
এ বিষয়ে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, সামান্য বরাদ্দ থেকে জেলার ছয় উপজেলায় ২০টি বেসিন বসানো হয়। দু’এক জায়গায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা করোনা মোকাবিলায় মানুষের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে স্থায়ীভাবে জনবহুল স্থানে আরও দেড়শটি বেসিনের চাহিদার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শিগগিরই সেগুলো বসানো হবে।
জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।








