অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় এবার নীলফামারীতে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানে সোনালি রং চড়ে গেছে। আর কিছুদিন পরই ধান ঘরে তুলবেন কৃষকরা। বাজারে ভালো দাম পেলে স্বপ্ন শতভাগ পূর্ণ হবে বলে আশা করছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয় উপজেলায় এই মৌসুমে এক লাখ ১৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে উফশি, ৫০৫ হেক্টরে স্থানীয় জাত এবং ১৮ হাজার ৪২০ হেক্টরে হাইব্রিট রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও মোট আবাদের ৩৪ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ব্রি-ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, এ মাসের শেষের দিকে তাদের কাঙ্ক্ষিত সোনালি ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।
এই ধান ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে লিফলেট বিতরণ, ইঁদুর দমন, ভ্রাম্যমাণ ফসল ক্লিনিক, আলোর ফাঁদ, উঠান বৈঠক, দলীয় আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উদ্ভূদ্ধ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও নিয়মিতভাবে রোগ ও পোকার আক্রমণ সংক্রান্ত পূর্বাভাস জরিপ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এই সব কাজ ছাড়াও জেলায় ১৮৪ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক কৃষকের জমিতে ফসলের তদারকিসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের বড়ঘাট এলাকার ধানচাষি হবিবর রহমান বলেন, ‘এবার ২২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। গত বোরো মৌসুমে ১২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। আর এই মৌসুমে (বর্ষায়) প্রচুর বৃষ্টির পানি পাওয়ায় ২২ বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছি। ধানও খুব ভালো হয়েছে। ধান ক্ষেতে শীষ সোনার মতো জ্বলছে। বাজারে ভালো দাম পেলে লাভবান হতে পারবো।’
সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের ধান চাষি বাবুল হোসেন বলেন, ‘এবার ২১ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ধান আছে ৫ বিঘা। বাকি ১৬ বিঘা উফশি জাতের। ভালো ফলন হয়েছে। স্বপ্ন দেখছি ভালো দামেরও।’ আর কিছু দিন পরই সোনালি ধানের মৌঁ মৌঁ গন্ধে ভরে উঠবে কৃষকের বাড়ির উঠান।
একই এলাকার বর্গাচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবেশীর কাছ তেকে ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিট ধানের চাষ করেছি। এই দোলায় (মাঠে) আমার মতো ধান কারো ফলেনি। বিঘায় ২০ মণ ধানের আশা করছি। প্রতিদিন আসি আর ধান কাটার স্বপ্ন দেখি। ধান কেটে ছেলে, মেয়ের লেখাপড়ার খরচ, কাপড় চোপড় কেনা, আর সংসারের বাকি ১০ মাস ভালোভাবে চলে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকা মাকড়ের উপদ্রব ছাড়াই কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারবে। উপসহাকারী কৃষি কর্মকর্তরা সার্বক্ষণিক কৃষকের মাঝে গিয়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। এবার ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছে। তুলনামূলকভাবে উফশি জাতের ধানের আবাদ এবার বেশি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ কমে উফশি জাতের ধানের আবাদ বেড়েছে। মোট উফশির আবাদ হয়েছে ৯৪ হাজার ১৩০ হেক্টর। বেশি ফলন পাওয়ায় কৃষক এখন হাইব্রিড ও উফশি জাতের ধানের আবাদ বেশি বেশি করছে। আশা রাখছি, এসব ধানে এবারও বাম্পার ফলন হবে। বাজারে ধানের দাম ভালো পেলে কৃষকের স্বপ্ন শতভাগ পূরণ হবে।








