নবান্নের আনন্দে আমন ধান কাটার ধুম লেগেছে নীলফামারীতে। জেলায় আগাম জাতের ধান কাটা মাড়াই চলছে পুরোদমে। মাঠের সোনালী ধান এখন ঘরে তুলতে ব্যস্ত এ অঞ্চলের কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, চলতি বছর আমন চাষে প্রতিকুল আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হয়েছে ছয় উপজেলার কৃষকদের। কিন্ত বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্বিঘ্নে ধান কাটা মাড়াই ও শুকানোর কাজ করতে পারছেন কৃষান-কৃষানিরা। মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মনের আনন্দে কাজ করছেন তারা। কথা বলার মতো ফুরসত নেই তাদের।
ধান কেটে অনেক কৃষকই আঁটি বেঁধে কাঁধে করে, আবার অনেকেই বিভিন্ন যানবহনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। বাসা-বাড়ির উঠানে চলছে আগাম জাতের ধান মাড়াইয়ের কাজ। এসব ধান নিয়ে কৃষকের যেমন ব্যস্ততা তেমনি আনন্দও প্রচুর। অনেকের বাড়িতে চলছে শীতের সকালে ভাঁপা পুলি, তেল পিঠা, নতুন চালের পায়েস ও নাড়ু মুড়ির মুখরোচক খাবার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সুত্রে জানা যায়, জেলার ছয় উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই মৌসুমে জেলায় এক লাখ ১৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফশি ৯৪ হাজার ১৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাত ৫০৫ হেক্টর, ও হাইব্রিড ১৮ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ করা হয়েছে। মোট আবাদের ৩৪ হেক্টরে রয়েছে সুগন্ধি ব্রি-ধান। অপরদিকে, কয়েক দফার বন্যা এবং অতি বৃষ্টির কারণে নিম্মাঞ্চলের ৩৯৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের নটখানা আর্দশপাড়ার কৃষক সফিয়ার রহমান জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ধানের বাম্পার ফলন করেছে কৃষকরা। অগ্রহায়ণ মাসে পুরো ধান কাটা শুরু হলেও আগাম জাতের বিভিন্ন ধান কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে কাটা শুরু করেছে।
একই এলাকার কৃষক ময়জুদ্দিন জানান, কয়েক দফা বন্যা আর অতিবৃষ্টির কারণে আমন ধান চাষে ব্যাঘাত ঘটলেও এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলনে কৃষক বেজায় খুশি। এছাড়াও ওই জমিতে সার ছাড়া শীতের সবজির প্রচুর আবাদ হয়। এতে দুই দিক থেকে কৃষকের লাভ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানান, জেলায় এক লাখ ১৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষক ধান কাটতে শুরু করেছেন। বাজারে ভালো দাম পেলে কৃষক এবার লাভবান হবে। পাশাপাশি কৃষকের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসব। এ যেন বাঙালি সংস্কৃতির চিত্র ফুটে উঠেছে গ্রাম-গঞ্জে।








