বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালের (টিটিআই) পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে বসবাসরত প্রায় ১৫০টি পরিবারের এক হাজারের অধিক মানুষ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চান। বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে কাটছে তাদের জীবন।
২০০৭ সালে জায়গাটি ছিল উন্মুক্ত। পরে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরকে সুরক্ষিত রাখতে গ্রামের পাশ দিয়ে নির্মাণ করেন জেলখানার মতো প্রাচীর। এরপর থেকে এখানে আটকা পড়েন ১৫০টি পরিবারে বসবাসকারী হাজারেরও অধিক মানুষ। নিজেদের বন্দিদশা থেকে রক্ষা পেতে বাধ্য হয়ে প্রাচীরের কয়েক জায়গা ভেঙে যাতায়াত করতে থাকেন তারা। এমন অবস্থায় অসুস্থ রোগী ও স্কুলগামী শিশুদের ভোগান্তির শেষ নেই।
তাছাড়া রাত হলেই শুরু হয় ভারত থেকে আমদানি করা লোহা ও লৌহজাতীয় পণ্য লোড-আনলোডের বিকট শব্দ। কাঁপতে থাকে গোটা এলাকা। শিক্ষার্থীদের মনোযোগে দারুণভাবে বিঘ্ন ঘটে।
এলাকাবাসী কয়েকবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টির সমাধান চেয়ে মানবিক আবেদন করলেও কোনও কাজ হয়নি। তাছাড়া এলাকাবাসী তাদের সমস্যার সমাধান চেয়ে আন্দোলনও করেছেন।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বসবাসকারীদের পক্ষে সমাধান চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করলেও কাজ হয়নি।
এদিকে, বন্দরের পাশ ঘেষে ইসরাইল সর্দারের বাড়ির সামনেই বসানো হয়েছে আমদানি-রফতানি পণ্য পরীক্ষার জন্য স্ক্যানিং মেশিন। যে মেশিন থেকে বের হয় মারাত্মক ক্ষতিকারক দূষিত বায়ু, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
এ ব্যাপারে ইসরাইল সর্দার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বদরুল আলম জানান, এলাকার কোনও বাড়িতে এখন আর ভাড়াটিয়ারা থাকতে চায় না। অনেক বাড়ি ভুতুড়ে অবস্থায় পড়ে আছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহম্মাদ ইউসুফ আলী জানান, বন্দরের পার্শ্ববর্তী সমস্যা কবলিত এলাকায় বসবাসরত মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ।
পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ বলেন, 'বসবাসকারী জনগণ এবং ওই এলাকায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত টিমের কাজও চলছে।'
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, 'এলাকাবাসীর সমস্যা ও অভিযোগ আমরা লিখিতভাবে পেয়েছি এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সুপারিনটেনডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আলী বলেন, 'বন্দরের (টিটিআই) পশ্চিমপাশে ১৫০টি পরিবারের প্রায় হাজারের অধিক মানুষের সমস্যার কথা আমরা জেনেছি। বন্দরের প্রাচীর নির্মাণের ফলে তারা আটকা পড়েছে। এটি বন্দর এলাকায় হওয়ায় বায়ু দূষণসহ বসবাসে নানা সমস্যা ও আছে। সমস্যা সমাধানে আমাদের চেষ্টা চলছে।'









