কুড়িগ্রামের উলিপুরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম নাঈম (২২) ও উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি সরদার রতনসহ (২৪) ছয় জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামলা করলে (মামলা নম্বর-১৩) অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
উলিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক ও উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আবু জাফর মো. মঈনুল হক নিজ নিজ সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়টি অবগত থাকার কথা স্বীকার করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রংপুর কোতোয়ালি থানার কামালকাছনা গ্রামের সম্ভুনাথ বণিকের ছেলে ওয়েস্টেজ পেপার ব্যবসায়ী প্রদীপ বণিক (৩৫) বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার একজন কর্মচারীসহ মোটরসাইকেলে করে রংপুর থেকে উলিপুর উপজেলার বজরা বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে উলিপুর পৌরসভার রামধাস ধনিরাম হাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম নাঈম ও উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সরদার রতনসহ ছয় জন যুবক ওই ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর তারা নিজেদের প্রশাসন ও ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অবৈধ মালামাল রাখার অভিযোগ তুলে ওই ব্যবসায়ী এবং কর্মচারীর শরীর তল্লাশি করেন। এসময় ব্যবসায়ীকে মারপিটের ভয় দেখিয়ে তার ব্যাগে থাকা দুই লাখ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসময় ব্যবসায়ীর চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয় লোকজন তাদেরকে (অভিযুক্তদের) চিনে ফেলে বলে দাবি করেন ওই ব্যবসায়ী। কিছু সময় পর ছিনতাইকারীরা ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া তাদের একটি মোটরসাইকেল নিতে আসলে এলাকাবাসী আহসান হাবিব বাবু (২৪) ও সাদেকুর রহমান দুলু (২৮) নামে দুই জনকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে শুক্রবার বিকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহিন মিয়া (২৫) নামে আরও একজনকে আটক করেন।
পলাতক অন্য আসামিরা হলো উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম নাঈম, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সরদার রতন এবং তৌফিক আলম চৌধুরী (২২)।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনা ও তাতে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাঈমের জড়িত থাকার কথা শুনেছি। আমরা বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তদন্তে নাঈমের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় সংগঠন নেবে না বলেও জানান এই ছাত্র নেতা।
উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আবু জাফর মো. মঈনুল হক বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর আমি বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় আমাদের সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির (ওসি) বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয় জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার তিন জনকে শুক্রবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যা আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।









