হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ৩০টিরও বেশি দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত শেষে ফিরে গেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)’র তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল।
সোমবার (১৫ মার্চ) বিকেল পৌনে ৩ টার দিকে তারা হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এর আগে তদন্ত কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কিছু জানাননি তারা।
তদন্ত কার্যক্রমের নেতৃত্বে থাকা ইউজিসি’র সদস্য ড. বিশ্বজিৎ চন্দ শুধু জানিয়েছেন, দুদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই তারা এই তদন্ত কার্যক্রম করছেন। এ সময় কোনও কিছু তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য না করা বা পত্রিকায় লেখা ঠিক নয় বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়েছে, কিন্তু হাবিপ্রবিতে কেন করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও হাবিপ্রবি’র বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এর আগে সকাল সোয়া দশটার দিকে ইউজিসি’র এই প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে সাড়ে ৫ ঘণ্টা অবস্থান করে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তারা কথা বলেন এবং বেশ কিছু কাগজপত্র দেখেছেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন ইউজিসি’র সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, প্রফেসর ড. আবু তাহের ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম শেখ।
এর আগে গত ৮ মার্চ ইউজিসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে এসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে এমন তথ্য ইউজিসি’র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম শেখ এক পত্রের মাধ্যমে হাবিপ্রবি কতৃর্পক্ষকে অবগত করেন।
ওই পত্রে উল্লেখিত তারিখ ও সময়ে দালিলিক প্রমাণাদিসহ প্রক্টরের দায়িত্বসহ ভর্তি পরীক্ষা ২০১৮ এর সহযোগী সদস্য সচিব খালেদ হোসেন, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলাম, আইআরটি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলাম, ড. বিধান চন্দ্র হালদার ও ড. শ্রীপতি শিকদার, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং প্ল্যানিং অ্যান্ড উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. ফজলুল হক, কন্ট্রোলার অধ্যাপক মিজানুর রহমান, প্রকৌশল শাখার চাঁদ আলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) আব্দুর রাজ্জাক, পরিবহন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াহেদকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
গত ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজ্জাদুল করিম নামে এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশন দিনাজপুরের উপ-পরিচালক বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন (অভিযোগ নং-৪০৮/২০১৯)। পরে অভিযোগটি দুদক দিনাজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দুদক প্রধান কার্যালয়ে পাঠায়। প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)’র চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠানোর জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট অভিযোগের কপিসহ ইউজিসি’র চেয়ারম্যান বরাবরে চিঠি দেয় দুদক।
দুদক বরাবরে দেওয়া অভিযোগপত্রে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়ম, কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম , আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি, শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি টাকা আত্মসাৎ, প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অনিয়ম ও দুর্নীতি, শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা ও স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন, নির্মাণ কাজে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা, মিথ্যা কাজের বিল দাখিল, গাড়ির মিথ্যা মেরামত দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতিসহ ৩০টিরও অধিক অনিয়মের কথা বলা হয়েছে।
সেখানে আরও বলা হয়, কর্মচারী নিয়োগের সার্কুলার ছিল ১৬ জনের। সার্কুলারে পদ সংখ্যা বাড়ানো কিংবা কমানের শর্ত না থাকার পরেও ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধি পরিবর্তন করে ৫ জনের অধিক জামায়াত-বিএনপি’র শিক্ষক রাখা হয়েছে। আরও দাবি করা হয়, মাস্টাররোল কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ না করেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ওয়েব সাইটে প্রকাশের কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। ফলে অনেক আবেদনকারী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। সার্কুলারে সুষ্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও ৩য় ও ৪র্থ কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।









