হামলার আশঙ্কায় থানায় জিডি করেছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মিন্টু

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
১৭ মার্চ ২০২১, ১২:৫৪আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২১, ১২:৫৪

দুর্বৃত্তদের হামলায় ডান হাতের কবজি হারানোসহ গুরুতর জখম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আতাউর রহমান মিন্টু প্রাণনাশের আশঙ্কা করেছিলেন। এ জন্য কুড়িগ্রাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ তিনি এই জিডি করেন। আহত ছাত্রলীগ নেতার পরিবার ও সদর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে পূর্ব বিরোধের জেরেই মিন্টুর ওপর হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র।

কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা শহরের মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আতাউর রহমান মিন্টুকে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার ডান হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়াও তার অপর হাত ও দুই পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান চিকিৎসকরা।

কুড়িগ্রাম সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে হামলাসহ প্রাণনাশের আশঙ্কায় আতাউর রহমান মিন্টু চলতি বছর জানুয়ারি মাসে থানায় একটি জিডি করেছিলেন। জিডি নম্বর-১২৮৭। ওই জিডিতে তিনি কাঁঠালবাড়ী বাজার এলাকার বাসিন্দা বাঁধন, রশীদ ও শামীমসহ তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়াসহ বাড়িতে হামলার আশঙ্কা করে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থাও নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র বলছে, পূর্ব বিরোধের জেরেই মিন্টুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঁঠালবাড়ী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাঁঠালবাড়ী এলাকায় বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয় বাঁধনের। ওই ঘটনায় বিএনপি দলীয় স্থানীয় এক নেতাসহ মিন্টুর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই হামলার ঘটনায় হওয়া মামলার হুকুমের আসামি ছিলেন মিন্টু।

স্থানীয়রা আরও জানান, আতাউর রহমান মিন্টু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলীর আপন ভাগিনা। আর বাঁধন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন মঞ্জু গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কাঁঠালবাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) মিন্টুর ওপর হামলাকারীদের মধ্যে বাঁধন নামে এক যুবক ছিলেন বলে জানিয়েছেন মিন্টুর সঙ্গে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া রাজু নামে তার এক সঙ্গী। মিন্টুর বরাত দিয়ে রাজু জানান, ঘটনাস্থলে বাঁধনসহ ছয় জন আগে থেকে ওঁত পেতে ছিলেন। মোটরসাইকেলে করে আনিছ নামে এক যুবকসহ মিন্টু ছিনাইয়ের পালপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থাতেই মিন্টুর ডান হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারেন বাঁধন। এতে মিন্টুর ডান হাতের কব্জি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় আনিছ পালিয়ে গেলেও মিন্টুকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। এতে মিন্টু মোটরসাইকেল থেকে পরে রাস্তার পাশে একটি খাদে পরে যান। এতেও থামেনি সন্ত্রাসীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিন্টুর দুই হাত ও দুই পায়ে কোপাতে থাকে তারা। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সন্ত্রাসীরা।

রাজু বলেন, ‘গুরুতর আহত মিন্টু তার ওপর হামলাকারীদের চিনতে পেরেছে। সে তার স্বজনদের কাছে হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে বর্তমানে তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।’

ঘটনার পর থেকে বাঁধন পলাতক রয়েছে। তবে বাঁধনের মা ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য (১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড) মর্জিনা বেগমের দাবি, তার ছেলে এ ঘটনায় জড়িত নন। তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।

মর্জিনা বেগম বলেন, ‘বাঁধন এ ঘটনায় জড়িত নয়। যে সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে তখন বাঁধন বাড়িতে ছিল। সে ওই সময় গোছল করছিল। অনেকে বাড়িতে এসে তাকে দেখেছে।’ তবে হামলার ঘটনায় বাঁধনের নাম আসার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে পুলিশ এই হামলাকে রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনও শিরোনাম দিতে নারাজ। এই হামলাকে একটি অমানবিক ও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেই দেখছে পুলিশ।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘পূর্ব বিরোধের জেরেই মিন্টুর ওপর হামলা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা না হলেও আমরা ইতোমধ্যে কয়েকজন হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেফতারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।’

ঘটনাস্থল রাজারহাট থানাধীন হওয়ায় ওই থানা পুলিশও ঘটনার তদন্তে মাঠে কাজ করছে।
রাজারহাট থানার ওসি রাজু সরকার জানান, এ ধরণের হামলা অত্যন্ত অমানবিক। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় অস্ত্রসহ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এখনও থানায় মামলা হয়নি। মামলা হলে এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) উৎপল কুমার রায় বলেন, ‘একটি ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আমরা এটি অপরাধ হিসেবেই দেখছি এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি।’

মিন্টুর করা জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই জিডি নিয়ে ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। মামলা হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

দুর্বৃ‌ত্তের কোপে ছাত্রলী‌গ নেতার হাত বিচ্ছিন্ন

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম