তিস্তার পানিতে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

নীলফামারী প্রতিনিধি
২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৫৯আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৫৯

দেশের উত্তরাঞ্চলে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৫ লাখ কৃষকের এখন প্রধান ফসল মরিচ, পেঁয়াজ, কুমড়া, ভুট্টা ও বোরো ধানের চাষ। এই মৌসুমে তিস্তার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিমলার ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সারাদেশে করোনা সংক্রমণ রোধে চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে কৃষক যাতে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছে পাউবো। ফলে প্রধান ক্যানেলের দুই ধারে সেচ সুবিধা পেতে কষ্ট হয়নি কৃষকদের।

পাউবো জানায়, এবার চলতি মৌসুমে সেচ সুবিধা পেতে ১২ উপজেলার সুবিধাভোগী কৃষকের মধ্যে ২৭০টি পানি ব্যবস্থাপনা দল তৈরি করা হয়েছে। তারা মূলত কৃষকের সুবিধার্থে পানি বণ্টনের কাজটি করে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় পানি সমবন্টন ও সেচ প্রদান সহজে করা যায়।

তিস্তার পানিতে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

প্রতিবারের ন্যায় তিস্তায় পানি প্রবাহ কম থাকলেও এই চলতি মৌসুমে পানি প্রবাহের ঘাটতি ছিল না। তাই তিস্তার পানির ওপর নির্ভরশীল উত্তরের জেলা নীলফামারী সদর, রংপুর সদর, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, জলঢাকা, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুর, পরবর্তীপুর, খানসামা ও চিরিরবন্দরসহ ১২টি উপজেলার কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।

এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ (লেয়ার) ভালো থাকায় সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হাজার  হেক্টর জমিতে সেচ দিতে সক্ষম হয়েছে পাউবো। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বেশি। এবার প্রচুর পানি সরবরাহের কারণে মরিচ, পেয়াজ, কুমড়া, ভুট্টা ও বোরো চাষে লাভবান হচ্ছে তিস্তাবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ।

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ ঘরবন্দি থাকায় সেচের ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন চিন্তা ছিল কৃষকের। কিন্তু দেখা গেল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বেশি সেচ সুবিধা পাচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষক। ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন অনেকেই।

একই এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, এবার ক্যানেলের পানি দিয়ে তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ২২ থেকে ২৫ মণ ধান ফলার আশা করছি। আর কয়েক দিনের মধ্যে সব ধান ঘরে তুলতে পারবো। সেচের পানিতে ধান চাষে খরচ কম লাভ বেশি।

এ ব্যাপারে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, মুজিববর্ষে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে না, বরং দ্বিগুণ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি খাতে সরকার ভর্তুকিসহ সব ধরনের সুবিধা দিয়ে আসছে। তাই সরকারি ছুটিতেও সেচ কার্যক্রম চলবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে কৃষকের জমিতে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়। উজানে এই মৌসুমে পানি প্রবাহ ভাল থাকায় তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকায় সম্পূরক সেচ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে বিগত দিনের চেয়ে এবার শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।

পাউবোর পানি পরিমাপক (গেজ পাঠক) নুরল ইসলাম জানান, জানুয়ারির শুরুতেই দুই হাজার কিউসেক পানি পাওয়া গেলেও এখন সেই পানি প্রবাহ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কিউসেক পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পানিতে সয়লাব দিনাজপুর ক্যানেলসহ আশেপাশের এলাকা। তাই চলতি মৌসুমে সেচ প্রদান সহজ হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি চুক্তির বিষয়টি দুদেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় নদীর পানি পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে।

/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম