বাবার পথে মেয়ে, ড্রাগন চাষে তাক লাগালেন শামীমা

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
০৪ জুলাই ২০২১, ১৭:৫২আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ০০:৪৬

বাবা ছিলেন কৃষক। তারই পথে হেঁটে এখন অনুকরণীয় হয়েছেন রংপুরের এক নিভৃত পল্লীর সফল উদ্যোক্তা শামীমা আক্তার। পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া ৫০ শতক জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে চমকে দিয়েছেন এলাকার সবাইকে। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এখন অনেকেই শুরু করেছেন লাভজনক ফলটির চাষ।

শামীমা আক্তার ইতোমধ্যে তার বাগানের ফল বিক্রি করে আয়ও করছেন। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পশ্চিম রহিমাপুর খানসাহেব পাড়া গ্রামের প্রয়াত শামসুল কাদেরের মেয়ে শামীমা আক্তার। বাবা চাষ করতেন লিচু, কলা, আদা ও মাছ। কৃষির জন্য সরকারি পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

শামীমা জানান, বাবার কারণেই ছোটবেলা থেকে নানা প্রজাতির ফুলফল ও ওষুধি গাছের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। বাড়ির ছাদে ফলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করতেন নিয়মিত। তবে একবার ভিয়েতনাম ভ্রমণে গিয়ে ড্রাগন ফল খেয়ে এটি চাষে আগ্রহ জন্মায় তার।

এরপর বাংলাদেশ স্কাউটের সাবেক পরিচালক প্রয়াত মমতাজ আলীর কাছ থেকে ও কয়েকটি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে ৫০ শতক জমিতে রোপণ করেন। বাবার পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০১৬ সালের শেষদিকে প্রায় ৮ শ’ ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন। ধীরে ধীরে চারা বড় হতে থাকলে স্বপ্ন পূরণ হয় শামীমার।

নারী উদ্যোক্তা শামীমা আরও জানালেন, তার ড্রাগন ফলের প্রতিটি গাছে বছরে ৫০ থেকে ৭০টি ফল ধরে। ওজনে প্রতিটি ৬০০-৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। তার মতে, বাড়ির আঙিনা ও ছাদে ড্রাগন চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।

বড় আকারের ড্রাগন ফলের বাজার মূল্য এখনও কেজিপ্রতি ৫-৬ শ’টাকা। শামীমা জানান, শাখা কেটে মাটিতে লাগালেই এ গাছ বাড়তে থাকে। এমনিতে প্রতিটি চারাগাছের দাম ৫০ টাকা করে। একেকটি গাছ ৩০ থেকে এক শ’ বছরও বাঁচে। দরকার সঠিক পরিচর্যা। পাতাবিহীন হওয়ায় পোকামাকড়ের সমস্যাও কম। দুয়েকবার সার দেওয়া ছাড়া তেমন একটা পরিচর্যারও প্রয়োজন হয় না। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষক ও খামারিদের মাঝে বিদেশি এ ফলের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে আরো প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

রংপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানান, ড্রাগন চাষ লাভজনক। এতে খরচ কম, আয় বেশি। রংপুরে ড্রাগনের সবচেয়ে বড় বাগান হচ্ছে শামীমা আক্তারের। কৃষি বিভাগ তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে।

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান জানান, রংপুরে ২৭টি ড্রাগন ফলের বাগান আছে। প্রায় ৬.৬২ হেক্টর জমিতে এ ফলের চাষ হচ্ছে। জেলার মিঠাপুকুর, গংগাচড়া ও তারাগঞ্জ উপজেলায় এ ফলের চাষ হয় বেশি।

 
 
/এফএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম