রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সঠিক তথ্য দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য হাসপাতাল পরিচালকের খামখেয়ালি ও উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের দাবি হাসপাতালের তথ্য সঠিকভাবে না পাওয়ার কারণে রংপুরসহ বিভাগের ৮ জেলার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও শনাক্তের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. জাকিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যথা সময়ে তথ্য না পাওয়ায় করোনার তথ্য সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, বিভাগের সব জেলার খবর মিললেও রমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের তথ্য পেতে সময় লাগছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও সমাধান মেলেনি বলে জানান তিনি।
এদিকে শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১টা পর্যন্ত রমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জনের মৃত্যুর অভিযোগ থাকলেও, এ বিষয়েও সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর সারাদেশের মতো রংপুরেও গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে করোনায় কতজন মারা গেলো, কতজন আক্রান্ত ও কোভিড হাসপাতালের আইসিইউ বেডের অবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। কিন্তু কোনোদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার আগে সেই রিপোর্ট পাওয়া যায় না। রমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের তথ্য পেতে দেরি হওয়ায় যথা সময়ে তথ্য দেওয়া যায় না। এ জন্য হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বহীনতা আর মিস ম্যানেজম্যান্টকে দায়ী করেছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলাম হাসপাতালে চেইন অব কমান্ড মেইনটেন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি হাসপাতালের কী কী সমস্যা, অক্সিজেন আছে কিনা, রোগীরা সেবা পাচ্ছেন কিনা, তার কোনও খবর রাখেন না। হাসপাতালের পুরনো ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে করোনা ইউনিটে রূপান্তরিত করা হয়েছে প্রায় দু’মাস আগে। সেখানে ৭২টি সাধারণ বেড রয়েছে। কিন্তু কোনও আইসিইউ বেড নেই, অক্সিজেন সরবরাহ লাইনও ঠিকমতো কাজ করে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এসবের সমন্বয়ের জন্য কোনও সমন্বয়কারী বা তথ্য জানাতে হাসপাতালের ফোকাল পারসন নেই।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সব ধরনের তথ্য সরবরাহের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পরিচালককে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে। এরপরেও তিনি এ বিষয়ে কোনও পতেএষপ নেননি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলামকে ৮-১০ বার ফোন করার পর তিনি কল রিসিভ করেন। এসময় কেন সঠিকভাবে করোনার আপডেট দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি, তথ্য পাবেন।
তবে অনেক সময় প্রয়োজনে দফায় দফায় ফোন দিলেও ফোন না ধরার কোনও সদুত্তোর তিনি দিতে পারেননি।









