নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র আশুরা পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইমামবাড়ায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের একটি অংশ ভিন্ন আঙ্গিকে তাদের তরিকা অনুযায়ী দিবসটি পালন করে থাকে।
সৈয়দপুর ইমামবাড়া কেন্দ্রীয় কমিটি জানায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তাজিয়া মিছিল বের হয় এই শহরে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে গত বছর মিছিল বের করা হয়নি। তবে সীমিত আকারে পাইকরা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতীকী কারবালায় গিয়ে তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করে।
এবারে উপজেলা শহরে ৪৪টি ইমামবাড়ায় তাজিয়া বসানো হবে। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি ইমামবাড়ায় দোয়া পাঠ ও শরবত বিতরণের পাশাপাশি চলছে তাজিয়া তৈরির কাজ। ইমাম হোসেনের মাজারকে স্মরণ করে তৈরি করা হয় এসব তাজিয়া। শুধু তাজিয়া মিছিল নয়, আশুরা উপলক্ষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা, তলোয়ার ও আগুন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলা হয়। একই সঙ্গে মুখে উচ্চারিত হয় ‘ইয়া হাসান, ইয়া হোসেন’।
অনেকে কান্নাকাটি আর ইমাম হোসেনের স্মরণে মাতম গীত গাইতে থাকেন। প্রতিটি ইমামবাড়ায় সারারাত ঢোল বাজনা, তাজিয়া মিছিল, লাঠি খেলা, ইমাম হোসেনের ঘোড়ার প্রতিকৃতি হিসেবে মানত করে পাইক বাঁধা, ইমামবাড়ায় ফাতেহা পাঠ, নিশান চড়ানো হয়ে থাকে, যা পুলিশি প্রহরায় এবারও স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
সৈয়দপুর অফিসার্স কলোনী ইমামবাড়ার খলিফা মো. মাসুদ ওয়ারসি জানান, ১ মহরম কারবালার ঘটনার স্মরণের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালনের প্রস্ততি শুরু হয়েছে। এখন প্রতিদিন ইমামবাড়া পরিষ্কার করা, দোয়া পাঠ ও শরবত বিতরণ চলছে। মহরমের ৭ তারিখে মানতকারীরা পাইক সাজাবে। ৯ তারিখে প্রতিটি ইমামবাড়ায় বসানো হবে তাজিয়া। দশম দিনে শহরের হাতিখানার কেন্দ্রীয় কারবালায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এর আনুষ্ঠানিকতা।
শহরের নতুন বাবুপাড়া ইমামবাড়া কমিটির সভাপতি সাকির হোসেন বাদল জানান, মহরমের ৭ তারিখের পর শহরজুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। তারা দেখতে আসেন, দোয়া পড়ে ও ভক্তি করেন। তবে বিগত বছরের ন্যায় এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এর আয়োজন করা হচ্ছে। আর এজন্য ইমামবাড়ায় অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে।
শহরে হাতিখানায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় প্রতীকী কারবালার আয়োজক কমিটির সদস্য হিটলার মোহাম্মদ শাহজাদা জানান, মহরমের ৭ তারিখে কারবালা থেকে কিছু মাটি শহরের প্রতিটি ইমামবাড়ায় নিয়ে যান সেখানকার খলিফারা। বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী সে মাটি একটি পাত্রে করে তাজিয়ার নিচে সংরক্ষিত রাখা হয়। এরপর তাজিয়াকে কেন্দ্র করে চলে অন্যান্য রীতিনীতি পালন।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ইমামবাড়ার কমিটির সভাপতিদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। তাজিয়া ও পাইক মিছিল বন্ধ রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মপ্রাণ শহরবাসী ইমামবাড়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।









