নীলফামারীতে পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার

নীলফামারী প্রতিনিধি
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৬আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৮

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টায় তিস্তার পানি ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে সকাল ৯টায় বেড়ে ৩৫ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়। বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ৫৭ সেন্টিমিটার) ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ পাঠক ও পানি পরিমাপক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আজ হঠাৎ করে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

পাউবো সূত্র জানায়, উজানের পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বেড়েছে। এর ফলে দশটি ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজারেরও বেশি পরিবার

এদিকে, চার দফায় পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনের মুখে পড়া ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ির চরের ডান তীর বাঁধের দুই নম্বর স্পারটি ১৫০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে সেখানকার এক হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে আজ ফের নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিমলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, হঠাৎ করে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা নদী পাড়ের এক হাজার পরিবার বন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চর এলাকার মানুষ হাঁটু পানিতে চলাচল করছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট।

উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, পানিবন্দি হয়ে পড়ায় কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছে। ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে বিপাকে রয়েছে তারা।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ভেন্ডাবাড়ি চরের দুই নম্বর স্পারটির ১৫০ মিটার ভেঙে যায়। এর ফলে প্রায় ২০০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শঙ্কায় পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা প্রিন্স জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে ও টানা বৃষ্টির ফলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিকাল ৩টার দিকে পানি বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা এলাকা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। কয়েক দফায় পানি বৃদ্ধির ফলে যেসব বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছিলো। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। তারপরও আমরা দেখছি কোথাও সমস্যা তৈরি হলে তাৎক্ষণিক মোকাবিলা করা হবে। বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়শ্রী রানী রায় বলেন, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির ফলে তিন হাজার ৫৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের মাঝে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত বণ্টনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
পাগলা নদীতে নেমে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ব্রহ্মপুত্র তীরে বালু ব্যবসায়ীদের টোল ঘর গুঁড়িয়ে দিলো এলাকাবাসী
ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে নদীতে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যু
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম