বছর তিনেক আগে শখের বসে পালনের জন্য ১২ হাজার টাকায় দুইটি কাশ্মিরি জাতের ছাগল কেনেন রতন চক্রবর্তী। এখন তার খামারে ২০টি ছাগল, যেগুলোর বাজার মূল্য প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। অল্প সময়ে কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় বড় খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। তাকে দেখে এলাকার অনেকে কাশ্মিরি জাতের ছাগল কিনে খামার গড়ছেন।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচোড়া ইউনিয়নের আঠিয়াবাড়ী কাচারী পাড়া গ্রামের অমল চক্রবর্তীর ছেলে রতন। জমানো টাকা দিয়ে তিন বছর আগে সৈয়দপুর থেকে ১২ হাজার টাকায় কাশ্মিরি জাতের চার মাস বয়সী একটি খাসি কিনেছিলেন। এখন ছাগলটির বয়স দুই বছর ছয় মাস। দৈর্ঘ্য ৪২ ও উচ্চতা প্রায় ৪০ ইঞ্চি। ওজন ৯৮ কেজি। গত কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য দাম ওঠে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্ত ওই দামে বিক্রি করেননি তিনি।
রতন বলেন, কাশ্মিরি জাতের ছাগল বছরে দুই বার বাচ্চা দিয়ে থাকে। প্রতিবার দুই থেকে চারটি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়। রোগ-বালাই নেই বললেই চলে। বছরে একবার ভ্যাকসিন দিতে হয়। আর কোনও ওষুধ লাগে না। আমার খামারে বর্তমানে ২০টি ছাগল। প্রতিদিন খাবারের জন্য গড়ে খরচ হয় ২৬০ টাকা। এছাড়া দেশের বাজারে কাশ্মিরি জাতের ছাগলের বেশ চাহিদাও রয়েছে। এই জাতের ছাগল রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এখন ছাগল বিক্রির আয় থেকে বর্তমানে বাড়িতে উন্নত জাতের ১০টি গরু কিনেছি। এ ছাড়া কিছু জমিও কিনেছি। সেখানকার ফসল দিয়েই সংসার চলে।
একই গ্রামের শ্যামল রায় বলেন, ‘আর্থিক অনটনের কারণে এইচএসসি পাস করার পর আর লেখাপড়া করতে পারেননি। তবে বসে না থেকে রতনের মত আমিও খাসি পালন শুরু করি। বর্তমানে আমার চারটি খাসি। আগামীতে খামারটি বড় করার পরিকল্পনা আছে।’
ডোমার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে কাশ্মিরি জাতের ছাগল পালন করছেন রতন। এই অঞ্চলে সচরাচর এ জাতের ছাগল লালন-পালন করা হয় না। তবে অনেকে শখের বসে শুরু করেছেন। আমরা তাদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী বলেন, কাশ্মিরি ছাগল পালন করে রতন সফল হয়েছেন। নিয়মিত তার ছাগলের খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। ডোমারে এখন অনেকেই কাশ্মিরি ছাগলের খামার করছেন। তারা পরামর্শের জন্য আমাদের কাছে আসছেন। তাদেরকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।









