কয়েকদিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দুর্গোৎসব হয় দিনাজপুরে। সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় থাকে প্রতিযোগিতা। ইতোমধ্যে মন্দিরগুলোতে চলছে সাজ সাজ রব। জেলায় এক হাজার ২৮১ মন্দিরে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৫টি বেশি।
দুর্গোৎসবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৪৯ মন্দিরকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ৩১২টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে পুলিশ। এসব মন্দিরে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। একইসঙ্গে ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক চেকপোস্ট বসিয়ে এবং মোবাইল ডিউটিতে থাকবে পুলিশ।
১১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দম ফেলার ফুরসত নেই প্রতিমা শিল্পীদের। গত বছরের তুলনায় করোনার সংক্রমণ কমায় তাদের হাতে কাজ বেশি। এতে আনন্দটাও বেশি। আগমনী আবহে খুশির জোয়ার তাদের মাঝে। প্রস্তুতিতে নেই কমতি। তাদের প্রার্থনা, পৃথিবী থেকে করোনা মহামারিসহ সব বিপদ দূর করবে দুর্গা মা। সবকিছু হবে স্বাভাবিক।
শহরের গণেশতলা বারোয়ারি দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার বোস বলেন, দুর্গোৎসব পালনে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। অনেক মন্দিরে মাটির আবার অনেক মন্দিরে রঙের কাজ চলছে। ভক্তদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। দুর্গা মায়ের কাছে প্রার্থনা, যেন তিনি আমাদের করোনার হাত থেকে মুক্তি দান করেন।
শহরের চাঁদেরহাট ক্লাব মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী স্বপন পাল বলেন, আগে প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে যে টাকা পেতাম এখন বেশি পাই। ৪০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছি। এখন ডিজিটাল যুগ, অনেকেই নেট দেখে বড় বড় প্রতিমা চান, আমরাও চেষ্টা করি নেটের ছবির মতো প্রতিমা তৈরি করতে। হয়তো একটু উনিশ-বিশ হয়। তবে চেষ্টার কমতি থাকে না।
তিনি বলেন, আগে ছোট ছোট প্রতিমা তৈরি হতো। এখন হয় বড় প্রতিমা। আগে প্রতি বছরে ১৫-১৭টি প্রতিমা তৈরি করতাম, এখনও বছরে প্রায় ১৪-১৫টি তৈরি করি। এবার ১৪টি প্রতিমার কাজ করছি। সহকর্মীরা রয়েছেন। দিনরাত কাজ করতে হয় তাদের।
দুর্গোৎসব ঘিরে নিরাপত্তাবলয় তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। নিশ্চিত করা হবে স্বাস্থ্যবিধি। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্যমতে, এক হাজার ২৮১ মন্দিরের মধ্যে ২৪৯টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩১২টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ৭২০টিকে সাধারণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলোতে আট, গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলোতে ছয় এবং সাধারণ মন্দিরগুলোতে চার জন করে ছয় হাজার ৭৪৪ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া ১৩ উপজেলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স ও অফিসার ইনচার্জসহ ৯৬৭ পুলিশ সদস্য ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক বিট-পিকেট-চেকপোস্ট ও মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবেন। সবমিলে দায়িত্বে থাকবেন সাত হাজার ৭১১ পুলিশ-আনসার সদস্য।
এক হাজার ২৮১ মন্দিরের মধ্যে সদরে ১৬৩, বিরলে ৯৪, চিরিরবন্দরে ১৪৭, পার্বতীপুরে ১৬১, বীরগঞ্জে ১৬০, বোচাগঞ্জে ৮২, কাহারোলে ৯৮, খানসামায় ১৪৭, ফুলবাড়ীতে ৫৭, বিরামপুরে ৪০, নবাবগঞ্জে ৭২, হাকিমপুরে ২১ এবং ঘোড়াঘাটে ৩৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ১৫৭ মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন হবে ১৫ অক্টোবর এবং ১০৮ মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন হবে ১৬ অক্টোবর। বাকি ১৬ মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন হবে না।
পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ডিএসবি, ডিবি এবং থানা পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছি। যাতে ভক্তরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন। সে জন্য প্রতি মন্দিরে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে। যারা আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিও নিশ্চিত করবেন। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের খানাখন্দ মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। ভক্তরা যাতে নিরাপদে মন্দিরে যেতে এবং বাসায় ফিরতে পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।








