বিভাগীয় নগরী রংপুরে ১৫ দিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রার নেই। এতে জমি কেনাবেচাসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দলিল করতে এসে শত শত মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় জমি কেনাবেচার দলিল সম্পাদন কার্যক্রমসহ অন্যান্য কাজ বন্ধ রয়েছে।
রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে মহানগর, সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডসহ সদর উপজেলার জমি কেনাবেচার দলিল সম্পাদনসহ যাবতীয় কার্যক্রম চলে। সাব-রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান ১৫ দিন আগে অবসরে গেছেন। তার পরিবর্তে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ সংক্রান্ত কোনও আদেশও জারি করা হয়নি।
জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতর বিষয়টি তদারকি করে। তারা আগে থেকেই জানে সাব-রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান অবসরে যাচ্ছেন। তার স্থলে একজন সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিষয়টি আমলে নেননি সংশ্লিষ্টরা।
সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, সদর উপজেলার মমিনপুর থেকে জমি বিক্রির দলিল করতে এসেছেন মমিনুল ও তার স্ত্রী আলেমা বেগম। পরপর চার দিন এসে সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ফিরে গেছেন। তারা জানান, স্বামী-স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন। সে জন্য একখণ্ড জমি বিক্রি করতে কিছু টাকা বায়না নিয়েছেন। এখন জমির দলিল করে দিতে না পারলে ক্রেতা বাকি টাকা দেবেন না। এ জন্য প্রতিদিন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আসছেন। কবে সাব-রেজিস্ট্রার আসবেন কেউ বলতে পারছেন না।
একই কথা জানান পাগলাপীর এলাকার সালাম মিয়া। তিনি বলেন, জমি কেনার জন্য বায়নার টাকা দিয়েছি। সময় ছিল একমাস। গত কয়েকদিন ঘুরতে ঘুরতে সময় পেরিয়ে গেছে। জমি রেজিস্ট্রি না করলে মালিক যদি বিক্রি না করেন তাহলে আইনত আমার কিছুই করার নেই। এমনকি বায়না হিসেবে দেওয়া টাকাও পাবো না। সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় বিপদে পড়েছি।
মহানগরীর ধাপ এলাকার আফজাল হোসেন জানান, তিনি একটি ফ্ল্যাট কেনার টাকা দিয়েছেন। রেজিস্ট্রির সময় বাকি টাকা দিতে হবে। সাত দিনের ছুটি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে রংপুরে এসেছেন। তিন এসেও সাব-রেজিস্ট্রারকে পাননি। কবে আসবেন তাও কেউ বলতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ছুটি শেষে রবিবার আমাকে কাজে যোগ দিতে হবে। আবার ছুটি নিয়ে রংপুরে আসা অনেক কষ্টের। বিভাগীয় নগরীর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৭০০, তার চেয়েও বেশি জমি কেনাবেচা হয়। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সব কার্যক্রম বন্ধ।
রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানায়, গত ১৫ দিনে অন্তত ছয়-সাত কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে মানুষ এসে প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছেন। তারা এখন আর আমার কথা শুনছেন না। বিপাকে পড়েছি। কবে নাগাদ সাব-রেজিস্ট্রার আসবেন, তাও জানা নেই।









