হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ের উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। ঘন কুয়াশা আর মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁবু হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ । গরম কাপড়ের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। গত কয়েকদিন থেকে এখানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। সামর্থ্যবানরা গরম কাপড় সংগ্রহ করলেও অসহায় গরিব শীতার্ত মানুষ ছুটছেন পুরাতন কাপড়ের দোকানে। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছেন না। ফলে শীত নিবারণে তাদের আশ্রয় নিতে হচ্ছে খড়কুটোর আগুনের ওপর।
সরেজমিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তীব্র শীতের মধ্যেও খেটেখাওয়া মানুষকে কাজ করতে হচ্ছে। কৃষক, শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছে। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়ির সামনে খড়কুটোয় আগুন ধরানো হয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী নারী পুরুষ একত্রে আগুন পোহাচ্ছেন।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সীরা ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে বেড ফাঁকা নেই।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মো. মনোয়ারুল ইসলাম এবং মেডিক্যাল অফিসার (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ) ডা. এস এম মাহবুব উল আলম জানান, শীতকালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টের রোগী বেড়ে যায়। আমাদের এখানেও রোগীর চাপ বেড়েছে। আমরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জীতেন্দ্রনাথ জানান, আজ মঙ্গলাবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়। সকাল ৬টায় ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সকাল ৯টায় তাপমাত্রা কমে এখানে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এখানে বাতাসের গতিবেগ ছিল ৩ থেকে ৫ নটিক্যাল মাইল, আর আদ্রতা ছিল ৭০ শতাংশ। দিনের সবোর্চ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার এখানে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার তারতম্য হচ্ছে। দেশের যে দিকে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে সে এলাকার তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।









