X
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

পেট্রোল বোমা মেরে ৬ বাসযাত্রীকে হত্যা: ৮ বছরেও হয়নি বিচার

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:০৩

২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারিতে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন দূর্গাপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা মেরে শিশুসহ ছয় যাত্রীকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। দগ্ধ হয়েছিলেন কমপক্ষে ২৫ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনার আট বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত মামলার বিচার শেষ হয়নি। গ্রেফতার আসামিরাও জামিনে মুক্তি পেয়ে এখন বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, ১৩২ আসামির ৬০ জন এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মামলার বেশিরভাগ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। কিন্তু তদন্তে ত্রুটি আছে উল্লেখ করে আসামিদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রমে স্টে-অর্ডার (স্থগিত) দিয়েছেন হাইকোর্ট। এটি বহাল থাকায় শেষ হচ্ছে না বিচার কার্যক্রম। উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডার উঠে গেলেই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

যাত্রীবাহী বাসে এক নৃশংস হামলা

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এরই প্রথম বলি হয় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন দূর্গাপুর এলাকায়। ১৪ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ছেড়ে আসা খলিল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশে রংপুরের বাতাসন এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওতপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা চলন্ত বাসে বেশ কয়েকটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। বাসের ভেতরে থাকা শিশুসহ ছয় যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আহতদের অনেকেই চির দিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন। অনেকে আগুনে দগ্ধের স্মৃতি ও ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন। ওই বাসের বেশিরভাগ যাত্রীই সহায়সম্বলহীন ছিলেন। তারা কাজের সন্ধানে ঢাকা যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

পুলিশের ভূমিকা ও বিচার

এ ঘটনায় এসআই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৮৭ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন। পরে তদন্ত করে মিঠাপুকুর থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম ১৩২ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দেন। রংপুরের অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালত-১-এ মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। ইতোমধ্যে ৬০ সাক্ষীর মধ্যে ৪৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে। কিন্তু মামলাটি পুলিশের দায়িত্বহীনতা এবং তদন্তজনিত ক্রুটির সুযোগ নিয়ে আসামিরা হাইকোর্টে আবেদন করলে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্টে-অর্ডার দেওয়া হয়। ফলে এর বিচার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় দীর্ঘ চার বছর ধরে শুনানি হচ্ছে না।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ মামলায় পুলিশ ১৩২ আসামির মধ্যে আট বছরে ৬০ জনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে মিঠাপুকুর থানার ওসি আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের আশা

সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী প্রধান আইনজীবী এবং রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, পুলিশ বাদী হয়ে ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে মিঠাপুকুর থানায় মামলাটি করে। তদন্তকালে আরও অনেকের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত ১৩২ জনকে আসামি করা হয়। ইতোমধ্যে বাদীসহ ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, ‘মামলাটির তদন্তে ত্রুটি থাকার সুযোগ নিয়েছে আসামিপক্ষ। তারা হাইকোর্টে মামলাটি খারিজের করার আবেদন করায় স্টে-অর্ডার দেওয়ায় বিচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হাইকোর্টে যাতে দ্রুত শুনানি করা হয় এ জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা পদক্ষেপ নিলে দ্রুত শুনানি করে বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত আনা সম্ভব।’ আর দেরি না করে দ্রুত সমাধান হবে- এ প্রত্যাশা করেন তিনি।

সরকারপক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি আব্দুস সাত্তার। তিনি জানান, মামলাটির বিচার শেষ পর্যায়ে এসে গেছে। কিন্তু আসামিপক্ষ হাইকোর্টে মামলাটি কোয়াশমেন্ট করার জন্য আবেদন করায় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে খুব দ্রুত হাইকোর্টে শুনানি শেষ হলে বিচার শেষ হবে।

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলের দাবি, ‘আমার জন্মস্থান মিঠাপুকুরে। মূলত ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন প্রতিরোধ করার নামে বিএনপি ও জামাত-শিবির চক্র পরিকল্পিতভাবে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা মেরে শিশুসহ ছয় যাত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে অনেকেই পঙ্গু হয়েছেন। মামলাটির এখনও বিচার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি বিচারকার্য দ্রুত শুরু আহ্বান জানান।

মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন জানান, মামলাটির যদি বিচার না হয় আইনের মারপ্যাঁচে আটকে যায়- তাহলে এ দায় কার? তিনি দ্রুত মামলাটির বিচার শেষ করে দোষীদের সাজা দেওয়ার আহ্বান করেন। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আরও বড় ধরনের সহিংসতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান।

/এফআর/
সম্পর্কিত
ট্রাক্টরে করে নির্বাচনি শোডাউন, উল্টে প্রাণ গেলো কিশোরের
ট্রাক্টরে করে নির্বাচনি শোডাউন, উল্টে প্রাণ গেলো কিশোরের
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে হিলিতে আমদানি-রফতানি বন্ধ
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে হিলিতে আমদানি-রফতানি বন্ধ
কুড়িগ্রামে দেয়ালচাপায় প্রাণ গেলো শ্রমিকের
কুড়িগ্রামে দেয়ালচাপায় প্রাণ গেলো শ্রমিকের
নিজ সন্তানকে অপহরণ-গুমের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন
নিজ সন্তানকে অপহরণ-গুমের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
ট্রাক্টরে করে নির্বাচনি শোডাউন, উল্টে প্রাণ গেলো কিশোরের
ট্রাক্টরে করে নির্বাচনি শোডাউন, উল্টে প্রাণ গেলো কিশোরের
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে হিলিতে আমদানি-রফতানি বন্ধ
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে হিলিতে আমদানি-রফতানি বন্ধ
কুড়িগ্রামে দেয়ালচাপায় প্রাণ গেলো শ্রমিকের
কুড়িগ্রামে দেয়ালচাপায় প্রাণ গেলো শ্রমিকের
নিজ সন্তানকে অপহরণ-গুমের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন
নিজ সন্তানকে অপহরণ-গুমের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন
বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড অপরজনের যাবজ্জীবন
বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড অপরজনের যাবজ্জীবন
© 2022 Bangla Tribune