গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে বাঁশঝাড়ে ফেলেছে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোরসালীন। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকালে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকালে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে মোক্তবে আরবি পড়তে যায় ওই শিশু। পড়া শেষ হলে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোরসালীন শিশুটির হাতে ১০ টাকার নোট দিয়ে বিস্কুট আনতে দোকানে পাঠায়। বিস্কুট নিয়ে আসার পর তাকেসহ মোক্তবে থাকা আরও দুই শিশুকে বিস্কুট খাওয়ায়। সকাল ৯টার দিকে মোরসালীন শিশুটিকে ডেকে মসজিদের পাশে তার থাকার টিনশেডের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি বাধা দিয়ে নানিকে বলে দেবে বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গলা চিপে ধরলে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এ সময় শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপরর পরনে থাকা হিজাব গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পুলিশ সুপার জানান, হত্যার পরপরই মসজিদে থাকা বালুভর্তি বস্তা খালি করে মোরসালীন লাশ বস্তা ঢুকিয়ে বেলা ১১টার দিকে নিজের বাইসাকেলের ক্যারিয়ারের পেছনে বস্তা বেঁধে দুই কিলোমিটার দূরের বর্ধন কুঠি এলাকায় নিয়ে যায়। বস্তাটি মানিক কাজীর বাঁশঝাড়ে ফেলে। এরপর খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি জিডি করে পরিবার। পরদিন স্থানীয়রা বাঁশঝাড়ে বস্তাভর্তি লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। শিশুটির বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নে। কিছুদিন ধরে শিশুটি মায়ের সঙ্গে তার নানার বাড়িতে থাকতো।
পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম আরও জানান, হত্যার রহস্য উন্মোচন ও জড়িতের শনাক্তে মাঠে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে একটি দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে সাইকেলের পেছনে বস্তা নিয়ে যেতে দেখা যায় মোরসালীনকে। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করলে শিশুটিকে হত্যা কথা স্বীকার করে। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বস্তা, বাইসাইকেলসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। মোরসালীন নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করায় গোবিন্দগঞ্জে থাকতো।
এ ছাড়া হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরাফাত, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আল-আমিন নামে গ্রেফতার তিন জনের বিরুদ্ধেও তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।









