ঢাকায় এলজি-বাটরফ্লাই শোরুমে চাকরি করেন রাইয়ান ইসলাম। চার দিনের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার শোরুমে কাজে যোগ দেওয়ার কথা। এজন্য একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটে অপেক্ষা করছিলেন দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে। কিন্তু হঠাৎ ত্রুটিজনিত কারণে ওই ট্রেনের 'ঝ' বগি বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।
শুধু তিনি নন, পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেসে ট্রেনের 'ঝ' বগি বাতিলের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন আরও অনেকেই। বিশেষ করে চিকিৎসা ও জরুরি কাজে যারা ঢাকা যেতে চেয়েছেন, তারা সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা।
সোমবার (১৫ মার্চ) রাতে বগিটি বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মোক্তার আলম।
ট্রেনযাত্রী রাইয়ান ইসলাম বলেন, আমার বাড়ি ঠাকুরগাঁও। ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলাম। দিনাজপুরে বন্ধুর বাড়ি। তাই টিকিট দিনাজপুর থেকেই কেটেছি অনলাইনে। 'ঝ' বগিতে সিট পেয়েছিলাম। মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। এখন হঠাৎ শুনি 'ঝ' বগি বাতিল। কিন্তু আমার ঢাকা যাওয়া জরুরি। উপায় নেই, যেভাবেই হোক আমাকে যেতে হবে।
দিনাজপুর পৌর শহরের হিরাবাগান এলাকার সৌরভ অধিকারী বলেন, আমি ব্যবসায়ী। ঢাকায় লাখ খানেক টাকার পণ্য কিনেছি। কিন্তু ট্রেনের বগি বাতিল। আবার টিকিট কাটতে গেলে চোরা কারবারির মুখে পড়তে হবে। এখন ফিরে যেতে হবে, উপায় নেই। কিন্তু রেলওয়ের দায়িত্বহীনতার এই দায়ভার কার? আমরা কার কাছে সমাধান চাইবো? দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এসব বিষয় দেখা উচিত।
দিনাজপুর পৌর শহরের রাজবাটী এলাকার ব্যবসায়ী ওয়াসিম আলী বলেন, আমি ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় যাবো। কিন্তু যেতে পারলাম না। বগি বাতিল, আমার কাজও বাতিল হলো। কাল টিকিট পাবো কিনা জানি না। এমনিতেই সহজে টিকিট পাওয়া যায় না। টিকিট কালোবাজারির কারণে চার-পাঁচ দিন আগে টিকিট কেটে রাখতে হয়। যখন বগি বাতিল হয়ে যায় তখন আমাদের বিপদে পড়তে হয়। এই বিষয়গুলো রেল কর্তৃপক্ষ দেখবে কবে?
এ বিষয়ে দিনাজপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মোক্তার আলম বলেন, লালমনিরহাট থেকে আমাদের জানানো হয়েছে 'ঝ' বগি বাতিল। পঞ্চগড়ে ট্রেনটির বগি খারাপ হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা যাত্রীদের বলেছি, তারা যেন টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা ফেরত নেন। যাদের খুব জরুরি তারা অন্য বগিতে যেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে বসার ব্যবস্থা হবে না।
রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটির বাতিল হওয়া 'ঝ' বগিতে যাত্রীদের জন্য সিট রয়েছে ৯২টি। এর মধ্যে দিনাজপুর স্টেশনে ২০ যাত্রীর টিকিট রেখে টাকা ফেরত দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দিনাজপুর স্টেশন থেকে মঙ্গলবার রাত ১১টা ১২ মিনিটে যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও ১৮ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি ছেড়ে যায় সাড়ে ১১টায়।









