গাইবান্ধা সদর উপজেলায় মাহুতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে তিনটি ইউনিয়নে তাণ্ডব চালিয়েছে একটি হাতি। সুন্দরী নামের হাতিটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে কয়েকটি গ্রামের ধানক্ষেত তছনছ করে ফেলেছে। তবে হাতিটি লোকালয় কিংবা মানুষের ক্ষতি করেনি।
রবিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের তিন মাইল এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে হাতিটি। নিয়ন্ত্রণহীন হাতিটি রামচন্দ্রপুর ছাড়াও সাহাপাড়া ও বল্লমঝাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেত নষ্ট করে ফেলে। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায় গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে এখনও হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতিটি লোকালয় ও ফসলি জমিসহ চারদিকে ছুটে বেড়ানোর কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাতিটিকে দেখতে শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমান। তবে সময় যত গড়াচ্ছে হাতির আক্রমণের ভয়ে অস্থির হয়ে পড়ছেন গ্রামবাসী। যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশষ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কে হাতিটি দিয়ে পথচারী ও দোকান থেকে টাকা তুলছিলেন মাহুত শাকিল হোসেন। হঠাৎ হাতিটি রশি ছিঁড়ে মাহুতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সেই সঙ্গে হাতিটি রাস্তার পাশের ধানের জমিতে হাঁটতে থাকে। চেষ্টা করেও তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি মাহুত। ফলে হাতিটি সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেতে তাণ্ডব চালায়। তাণ্ডবে অন্তত ৫০ বিঘা জমির উঠতি ধান নষ্ট হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
রবিবার রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত হাতিটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. নাসিম রেজা নিলু।
তিনি বলেন, 'প্রতি বছর বৈশাখ মাসে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়িতে বৈশাখী মেলা হয়। স্থানীয়ভাবে মেলাটি ঠাকুরবাড়ি মেলা নামে পরিচিত। কয়েক দিন আগে বগুড়া থেকে মেলায় খেলা দেখানোর জন্য একটি নারী হাতি নিয়ে আসেন আয়োজকরা। হাতির মালিক মাসুদ ও খাইরুলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মূলত ১২ বছর বয়সী সুন্দরী নামের হাতিটির প্রজননের সময় হয়েছে। তাই হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সোমবার হাতিটির প্রজনন করানোর জন্য বগুড়া থেকে পুরুষ হাতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে আসবে। দিনভর হাতিটি বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ কিলোমিটারজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে অনেক ধানক্ষেতের ক্ষতি হলেও হাতিটি লোকালয় কিংবা মানুষের ওপর আক্রমণ করেনি। সোমবার হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।'
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাছুদার রহমান সরকার বলেন, মাহুত শাকিল হাতিটি দিয়ে টাকা তুলছিল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সোমবার সকালে আমরা ঘটনাস্থলে যাবো।









