ক্লাসে বৈদ্যুতিক পাখার আঘাতে চোখ হারালেন শিক্ষিকা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
০২ আগস্ট ২০২২, ২১:০৩আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ২১:০৩

কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে বৈদ্যুতিক পাখার আঘাতে চোখ হারিয়েছেন ওই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক। সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্ষতিগ্রস্ত চোখে অপারেশন করা হয়। আহত শিক্ষকের নাম শিরিনা আকতার (৪০)। তিনি জেলার চিলমারী উপজেলার শরিফেরহাট এলাকার বদরুল আলম খন্দকারের মেয়ে এবং কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার নাজিরা চৌধুরী পাড়া গ্রামের শেখ আলমগীর কবীর বাবলুর স্ত্রী। ২০২০ সাল থেকে তিনি ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনী রানী রায় বলেন, ‘সোমবার দুপুরে শিরিনা আকতার চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নিতে যান। কিছুক্ষণের মধ্যে হঠাৎ তার চিৎকার শুনে আমরাসহ আশপাশের লোকজন ক্লাস রুমে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, তার ডান চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। তিনি শুধু চিৎকার করছেন। মাথার ওপরের ফ্যানটি বাঁশ দিয়ে বাঁধা ছিল। একদিকের বাঁধন আলগা হয়ে বাঁশটি হেলে পড়লে ফ্যানের একটি ডানা সরাসরি তার ডান চোখে আঘাত করে। পরে আহত শিক্ষককে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ তার চোখের অপারেশন করা হয়।’

আহত শিক্ষকের স্বামী শেখ আলমগীর কবীর বাবলু বলেন, ‘রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুফাখ্খারুল ইসলাম মুকুলের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী তার চোখের অপারেশন করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঘাতপ্রাপ্ত চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় ওই চোখ দিয়ে তার দেখার সম্ভাবনা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে এখনও তার চোখ নষ্ট হওয়ার খবর জানানো হয়নি। সে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক অসুস্থ। আমি তার জন্য সবার দোয়া চাই।’

গোড়াই দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমাদের স্কুল ঘরটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাদিরউজ্জামানকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে খবর পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) শহীদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে ডিপিইও বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষক লিখিত আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা করবে।’

/এফআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কাতারকে বিদায় করে অপেক্ষায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
কাতারকে বিদায় করে অপেক্ষায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
জৈব সারের নামে কৃষকদের দেওয়া হলো ‘ময়লা-আবর্জনা’
জৈব সারের নামে কৃষকদের দেওয়া হলো ‘ময়লা-আবর্জনা’
সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও কানাডার ইতিহাস
সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও কানাডার ইতিহাস
৩ ঘণ্টা পর গেলো সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু
৩ ঘণ্টা পর গেলো সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু
সর্বাধিক পঠিত
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মির্জা আব্বাসের সংসদে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন
মির্জা আব্বাসের সংসদে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন
কম দামে আনঅফিসিয়াল ফোন কেনা কি নিরাপদ
কম দামে আনঅফিসিয়াল ফোন কেনা কি নিরাপদ