হত্যার পর শ্যালিকাকে আড়ে ঝুলিয়ে দেয় গণি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০৩আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:৩৩

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন অভিযোগে ওই শিশুর জ্যাঠাতো বোনের স্বামী আব্দুল গণিকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের আস্করনগর পোলাদিটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার দুপুরে গ্রেফতার আব্দুল গণি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) নবীউল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে শিশুটিকে হত্যার আগে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেনি পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিশুর নাম হাফছা খাতুন খুশি (৯)। সে ওই গ্রামের বাবু মিয়ার মেয়ে বলে জানা গেছে। আর আব্দুল গণি একই এলাকার মণ্ডলেরকুটি গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে। খুশির জ্যাঠাতো বোন আঙ্গুয়ারার স্বামী গণি। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আব্দুল গণিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দাম্পত্যকলহের কারণে তিন মাস আগে খুশির মা তার বাবাকে ছেড়ে মুন্সিগঞ্জে খুশির নানা বাড়িতে চলে যান। এরপর ভুক্তভোগী খুশি তার দুই বোনসহ তার ফুফুর কাছে থাকতো। তার বাবা ঢাকায় প্লাস্টিক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। সম্প্রতি খুশির জ্যাঠাতো বোনের সঙ্গে আব্দুল গণির বিয়ে হয়। তারা খুশির বাবা বাবু মিয়ার ঘরে থাকতো। কিছুদিন আগে গণির লুঙ্গি ধরে টান দেয় খুশ্ এতে সে শিশুটির ওপর ক্ষুব্ধ হয়। গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে খুশিকে ঘরের ভেতর নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে গণি। পরে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য লাশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে দরজায় তালা দিয়ে রাখে।

পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করলে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ ঘটনার আবদুল গণিকে গ্রেফতার করে। সোমবার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় গণি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নাগেশ্বরী থানার ওসি নবীউল হাসান বলেন, হত্যার দায় স্বীকার করে গণি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্ত্রী আঙ্গুয়ারা এবং শাশুড়ি আমিনা বেগমও সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। 

শিশু খুশিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় কিনা, এ প্রশ্নে ওসি বলেন, আমরা ওই বিষয়টি নিয়েও অনুসন্ধান করছি। তবে আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেনি। তারপরও আমরা ময়নাতদন্তে পরীক্ষা করতে বলেছি।

/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম