নীলফামারীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। জেলায় মোট পূজামণ্ডপ প্রস্তুত করা হচ্ছে ৮৮০টি। দেবী দুর্গায় রঙতুলির কাজও প্রায় শেষ। এখন চলছে মণ্ডপ আকর্ষণীয় ও গেট নির্মাণের কাজ।
জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া (জমিদার বাড়ি) কাছাড়ি বাজার পূজামণ্ডপে অসুর বধের পুরো চিত্রটি তুলে ধরেছেন মৃৎশিল্পী সত্যেন্দ্র নাথ রায় (৪৫)। এবার দশভুজা দুর্গা দেবীর কারুকাজগুলো খুবই আকর্ষণীয় ও চমৎকার। গত বছরও ওই মণ্ডপে কাজ করেছিলেন তিনি। পাঁচ জন সহকারী নিয়ে এসব প্রতিমা তৈরি করেছেন। এখন চলছে রঙের কাজ। আগামীকাল পূজা কমিটির কাছে প্রতিমাগুলো হস্তান্তর করা হবে।
সত্যেন্দ্র নাথ বলেন, ‘গতবারের চেয়ে এবারের প্রতিমাগুলো একটু ব্যতিক্রম। আকারে অনেক বড় এবং নতুনত্ব রয়েছে। শাপলা ফুলের মাঝখানে গণেশ ঠাকুরের আবির্ভাব হয়েছে। যুদ্ধে যাচ্ছেন কার্তিক ঠাকুর। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে গণেশ ও কার্তিকের বাহন হিসেবে তৈরি করেছে রথের গাড়ি।’
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধিরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘জেলার ৬১টি ইউনিয়নের মধ্যে বাহালী পাড়া কাছাড়ি বাড়ি পূজামণ্ডপে প্রতিবারেই জাঁকজমকপূর্ণ পূজা হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮০০ সালে মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন ওই গ্রামের বসবাসরত জমিদার হরেন্দ্র গোস্বামী। তারই নাম অনুসারে ওই মণ্ডপের নামকরণ করা হয় কাছাড়ি বাড়ি পূজামণ্ডপ। হিন্দু ধর্মের লোকজন এটিকে রামনগর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ হিসেবে মনে করেন।’
কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘গতবারের চেয়ে এবার অত্যাধুনিক লাইটিং, গেট ও প্রতিমার অলংকারসহ সবকিছুই আর ১০টি পূজামণ্ডপের চেয়ে ভিন্ন। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি ভক্তদের আর্থিক সহযোগিতায় এবার মা দুর্গার চরণ সেবা করা হবে।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, এবার জেলায় ৮৮০টি পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ডোমারে ১০৩, ডিমলায় ৭৮, জলঢাকায় ১৮৯, কিশোরগঞ্জে ১৪৭, নীলফামারী সদরে ২৮২ ও সৈয়দপুরে ৮১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তা নিজ নিজ উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘পূজা উদযাপন পরিষদ দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনও আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আছে।’
সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শান্তনা চক্রবর্তী বলেন, ‘আশা করি, সবার সহযোগিতায় এবার পূজা ভালোই হবে। সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি ১৪১ মেট্রিক টন চাল। ইতোমধ্যে পূজা কমিটিতে বিতরণ করা হয়েছে। এবার সদরে ২৮২টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে। প্রতি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ বলেন, ‘আমরা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু থেকেই মণ্ডপগুলোর খোঁজ-খবর রাখছি। যাতে কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গ্রাম পুলিশ, মেম্বার ও চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছেন।’
পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতবারের চেয়ে এবার প্রত্যেকটি মণ্ডপে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পূজা চলাকালীন সাদা পোশাকধারী পুলিশ (ডিবি) তথ্য সংগ্রহ করবে, পোশাকধারী পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করবে এবং ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসন ও বিজিবি সদস্যরা পুরো এলাকায় টহল দেবেন। এছাড়া পূজা পরবর্তী সাত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করবেন। শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।









