দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় পিছিয়েছে। মামলার যুক্তিতর্কের পুনঃপর্যালোচনার জন্য আগামী ২০ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। পুনঃপর্যালোচনা শেষে রায়ের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।
দিনাজপুর আদালত পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ মঙ্গলবার মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও সেটি হচ্ছে না। আদালতের বিচারক বদলি হওয়ায় নতুন বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। তাই মামলার রায় পেছানো হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ওই মামলাটির যে যুক্তিতর্ক হয়েছিল সেটির পুনঃপর্যালোচনা করবেন নতুন বিচারক। এ জন্য আগামী ২০ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন মামলাটির যুক্তিতর্কের পুনঃপর্যালোচনার পর রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রনজিৎ কুমার সরকার জানান, এই মামলাটির রায় ঘোষণার ধার্য তারিখ ছিল আজ। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতে রায় ঘোষণা করবেন বিচারক। তবে এই আদালতের বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতে বদলি হয়েছেন। আর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতে নতুন বিচারক হিসেবে বেগম সাদিয়া সুলতানা যোগদান করেছেন। তিনি মামলাটির নথিপত্র দেখে এবং বিস্তারিত জানার পর পরবর্তী রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক ৪ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। মামলাটি প্রথম থেকে মোট ৬১ কার্য দিবস পরিচালনা করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রথম থেকেই এই মামলাটির কার্যক্রম দিনাজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরিচালিত হয়েছে। তবে পরে মামলাটি দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতে হস্তান্তর করা হয়। সেখানেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলাটিতে সর্বমোট ৫৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলায় একমাত্র আসামি ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলাম (৩৫) উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। তবে তার উপস্থিতিতে আদালতে বিচারের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলাম তৎকালীন ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে তাকে ও তার বাবাকে আহত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও পরে এয়ার অ্যাম্বলেন্সে ঢাকার জাতীয় নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর ওয়াহিদা খানমের ভাই পুলিশ পরিদর্শক শেখ ফরিদ ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন। পরে ওই মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ভীমপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর রবিউলকে গ্রেফতার করে। রবিউল ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদালতের আদেশে ডিবি পুলিশের হেফাজতে ৯ দিনের রিমান্ডে ছিল। পরে ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করেন তৎকালীন ডিবির ওসি ইমাম জাফর।









