কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে আরডিআরএস বাংলাদেশের এক নারী কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ইউনিয়নের ভানুরকুটি গ্রামে ঋণগ্রহিতা এক নারী ও তার স্বামী ওই এনজিওকর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত আরডিআরএস কর্মীর নাম শিবলী খাতুন (২৬)। তিনি সংস্থাটির রাজারহাট শাখার অধীন এমএফও পদে কাজ করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুস সালাম (৪৫)। তিনি পেশায় ট্রাকচালক এবং আরডিআরএস রাজারহাট শাখার অধীন কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ভানুরভিটা গ্রামের সদস্য সামসুন্নাহারের স্বামী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হামলার শিকার শিবলী খাতুন বলেন, ‘সামসুন্নাহার আরডিআরএস থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। ওই ঋণের এখনও ছয় হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। কিন্তু তা পরিশোধ না করেই নতুন করে ঋণ দাবি করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আমি ভানুরভিটা গ্রামে ঋণের কিস্তি তুলতে যাই। ওই সময় সামসুন্নাহার আবারও আমার কাছে নতুন করে ঋণ দাবি করেন। আমি আগে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করে ঋণ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। তখন তিনি তার স্বামীকে ডেকে আনেন এবং আমাকে গালাগালি করতে থাকেন। আমি গালি দিতে নিষেধ করলে আব্দুস সালাম ও সামসুন্নাহার কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে অফিসে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি আইনগত প্রতিকার চাই।’
এ বিষয়ে কথা বলতে সামসুন্নাহারের মোবাইল ফোনে কলা করা হয়। কল রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ করেননি। তার স্বামী ট্রাকচালক আব্দুস সালামের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
কুড়িগ্রাম জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আয়নাল হক বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমি আহত নারীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি। তাকে দেখার পর আমি লজ্জায় কিছু বলতে পারিনি।’
অভিযুক্ত ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর আব্দুস সালাম ফোন বন্ধ করেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’
সড়ক দুর্ঘটনায় সালাম মাথায় আঘাত পেয়ে কিছুটা অসংলগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের এই সভাপতি।
আরডিআরএস রাজারহাটের এরিয়া ম্যানেজার মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী কোনও সদস্যের আগে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুন করে ঋণ দেওয়ার সুযোগ নেই। নারী কর্মীর ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’
আরডিআরএস কুড়িগ্রামের জেলা রিজিওনাল ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, ‘আহত কর্মীকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।’
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো.শাহরিয়ার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









