কুড়িগ্রামে নারীকে ধর্ষণের দায়ে আবুল কালাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অম্লান কুসুম জিষ্ণু এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের অক্টোবরে উলিপুরের এক নারীকে ধর্ষণ করেন আবুল কালাম। এরপর ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগী বিয়ের কথা বললে আবুল কালাম অস্বীকৃতি জানান এবং গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলেন। পরে ওই নারী ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবুল কালামকে আসামি করে উলিপুর থানায় মামলা করেন। ধর্ষণের ফলে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করলেও সন্তানের দায়িত্ব নিতে চাননি আসামি। ২০১১ সালে ভুক্তভোগী আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। দায়রা আদালতে সেই আবেদন খারিজ হলে পরে উচ্চ আদালতে যান। উচ্চ আদালত ২০১৯ সালে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দেন। এরপর ডিএনও পরীক্ষায় ভুক্তভোগী নারী ও আসামি আবুল কালাম ওই সন্তানের জৈবিক মা-বাবা বলে প্রমাণ হয়। আদালত সামগ্রিক দিক বিবেচনায় আসামি আবুল কালামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ট্রাইব্যুনালের পিপি আব্দুর রাজ্জাক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শামসুল হক সরকার।









