ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল হাইকে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে মিষ্টির দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। ফোনকারী নিজেকে ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট’ পরিচয় দিয়ে হাইকে ওই মিষ্টির দোকানে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে ডিসিকে রিপোর্ট করতে হবে বলেও জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। ফলে আব্দুল হাই ওই ব্যক্তির সঠিক পরিচয় শনাক্ত না করেই মিষ্টির দোকানে গিয়েছিলেন। আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে ফোনে সেই ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে।
গত বুধবার (০৫ অক্টোবর) ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে উপজেলার দুই মিষ্টির দোকান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। তবে আব্দুল হাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি কারও কাছ থেকে কোনও অর্থ আদায় করিনি।'
এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। বাংলা ট্রিবিউনের হাতে আসা ৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ওই অডিও ক্লিপে শোনা যায়, আবুল কালাম আজাদ নামধারী এক ব্যক্তি আব্দুল হাইকে ফোন দিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন। তিনি আব্দুল হাইয়ের কাছে উপজেলায় কতটি বড় মিষ্টির দোকান আছে তা জানতে চান। তাকে ডিসি ফোন দিয়েছেন এবং তিনি ইউএনও অফিস থেকে আব্দুল হাইয়ের মোবাইল নম্বর নিয়েছেন জানিয়ে মিষ্টির দোকানে গিয়ে দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। মিষ্টির দোকানের মালিকদের সঙ্গে ইমার্জেন্সি কথা বলতে হবে এবং ডিসিকে রিপোর্ট করতে হবে বলে জানান ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ পরিচয় দানকারী ব্যক্তি।
আব্দুল হাই বাইরে আছেন জানিয়ে আধা ঘণ্টা সময় চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আধা ঘণ্টা হলে আমার অতিরিক্ত দেরি হয়ে যাবে।’ ডিসিকে রিপোর্ট করতে হবে জানিয়ে তিনি সময় দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে আব্দুল হাই অন্তত ২০ মিনিট সময় চান। তখন তিনি আব্দুল হাইকে ১৫ মিনিট সময় দেন।
ফোনকারী আরও বলেন, ‘ওই দুই মিষ্টির দোকানদার আপনাকে চেনে? আপনি তাড়াতাড়ি যান। কারণ আমি সময় দিতে পারবো না। আমি কম্পিউটার নিয়ে বসে আছি। রিপোর্ট করতে হবে।’ আব্দুল হাই তখন মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ওই মিষ্টির দোকানে যাওয়ার কথা জানান।
এদিকে, কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্র জানায়, কুড়িগ্রামে বর্তমানে কর্মরত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নাম আলমগীর কবির শিপন। আবুল কালাম আজাদ নামে কুড়িগ্রামে কোনও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্মরত নেই।
এর আগে গত বুধবার রাতে উপজেলা শহরের ‘বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার’ ও ‘ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডার’ দোকানের মালিকরা আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে তাকে আটক করেন। পরে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী আব্দুল হাই বলেন, ‘এটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটানো হয়েছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় দিয়ে আমাকে ফোন করে মিষ্টির দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়। ফোন পেয়ে ওই দুই দোকানে যাই। এ সময় লোকজন জড়ো হয়ে আমাকে আটক করে এবং চাঁদা দাবি করেছি বলে অভিযোগ তোলেন।’
তবে নিশ্চিত না হয়ে অপরিচিত একজনের ফোন পেয়ে কেন মিষ্টির দোকানে গেলেন তা জানতে বুধবার (১২ অক্টোবর) আব্দুল হাইয়ের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।
নিজ কার্যালয়ের অফিস সহকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ফোন দিয়ে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টাকারীকে শনাক্ত করতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইউএনও মোহাম্মদ পূবন আখতার বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’
রৌমারী থানার পরিদর্শক এমআর সাঈদ বলেন, ‘এ নিয়ে কোনও পক্ষই এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবো।’
আরও পড়ুন:









