কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে অপারেশন চলাকালীন অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন অপারেশন থিয়েটারের সামনে থাকা ওই রোগীর ছেলেসহ তিন জন।
মৃত ব্যক্তির নাম শিরিন বেগম (৫২)। তিনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শীলমুড়ি ইউনিয়নের ফলকামুড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের স্ত্রী। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিষয়টি জানিয়েছেন মৃতের স্বজনরা।
শিরিন বেগমের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার মাকে ডায়াবেটিস হাসপাতালে নিয়ে যাই। পায়ে ইনফেকশন থাকায় চিকিৎসক বলেছেন, মাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রবিবার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। বুধবার চিকিৎসক বলেন, মায়ের পা কেটে ফেলতে হবে। রাতেই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ওই সময় আমাকে চিকিৎসকের সহযোগীরা বলেন, বাইরে থাকা অ্যাম্বুলেন্স থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনতে। ৭০০ টাকা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনলাম। কিন্তু সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই হচ্ছিল না। তাই অ্যাম্বুলেন্সচালক ও তার সহযোগী মিলে ঠিক করছিলেন। এ সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অপারেশন থিয়েটার অন্ধকার হয়ে যায়। বিস্ফোরণে আমার দুই হাত ও মুখ ঝলসে যায়। অ্যাম্বুলেন্সচালক ও তার সহযোগী আহত হন। তখন অপারেশন থিয়েটারে মায়ের পা সেলাই না করে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে চলে যান চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় রক্তক্ষরণ হতে হতে আমার মা মারা গেছেন।’
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সরকারি সিলিন্ডার থাকার পরও তারা আমাকে বাইরে থেকে কিনে আনতে বললেন। ওই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তাড়াহুড়ো করে ব্যান্ডেজ না করে চলে যান চিকিৎসকরা। মায়ের পা সেলাই করলে তিনি হয়তো বেঁচে যেতেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অক্সিজেন সিলিন্ডারটি বাইরে থেকে এনেছেন রোগীর স্বজনরা। তারা সিলিন্ডারের মুখ খোলার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে চিকিৎসক-নার্স আহত হননি। ঘটনাটি ঘটেছে অপারেশন থিয়েটারের সামনে। আহত অ্যাম্বুলেন্সচালককে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভতি করা হয়েছে।’
ওই রোগীর মৃত্যুর সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কোনও যোগসূত্র নেই উল্লেখ করে ডা. সাজেদা খাতুন বলেন, ‘হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা আছে। তাহলে হাসপাতালে কর্মরতরা বাইরে কেন সিলিন্ডারের জন্য পাঠাবেন। স্বজনরাই সিলিন্ডার নিয়ে এসেছেন। ওই রোগী শকে ছিলেন। তাই তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে মারা গেছেন। অপারেশন থিয়েটারে তার চিকিৎসায় কোনও সমস্যা হয়নি।’









