কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম টুকুর স্নাতক (বিএসসি পাস) পাসের সনদ ভুয়া বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আলমগীর হোসেন সরকার। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের সনদ যাচাইয়ের আবেদনের জবাবে এ তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, স্নাতক পাস না হয়েও ভুয়া সনদ দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সিরাজুল ইসলাম সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় কলেজের গভর্নিং বডির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, মূলত কিছু পদে নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরাজুল ইসলাম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সভাপতি হয়েছেন। এ অবস্থায় বর্তমান গভর্নিং বডি ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।
এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতি পদের মনোনয়ন অনুমোদন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এরপরই তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সিরাজুল ইসলাম নিজেকে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে বিএসসি পাস দাবি করলেও কলেজে থাকা তথ্য অনুযায়ী ১৯৭৫ সালে বি.কম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেন।
আরও পড়ুন: ৬ শিক্ষকের পর এবার জানা গেলো সভাপতির সনদও ‘ভুয়া’
কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সভাপতির সনদ জালের বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানতে পেরেছি। তার সনদ জাল হলে বিধি অনুযায়ী সভাপতির পদে থাকতে পারেন না। কলেজের সুনাম ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম টুকুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার সনদটি সঠিক।
তবে কলেজের অধ্যক্ষ এ বিষয়ে দায় নিতে নারাজ। গভর্নিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার এখতিয়ার নেই ‘অজুহাত’ দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমাকে কেউ অভিযোগ দেয়নি। আমি পত্রিকায় দেখেছি। আর গভর্নিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই।’
জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলজ পরিদর্শক ফাহিমা সুলতানা বলেন, ‘জাল সনদ দিয়ে সভাপতি পদে থাকার বৈধতা নেই। সনদ জাল হয়ে থাকলে আমরা তার পদ বাতিলের ব্যবস্থা নেবো। তবে সেজন্য সেই অভিযোগ আমাদের কাছে করতে হবে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের কাছে উপযুক্ত প্রমাণপত্রসহ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’
তবে মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীর দাবি, গত ২১ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র তার কাছে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ অজানা কারণে সময়ক্ষেপণ করছেন।









