রংপুর অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন তাপমাত্রা কমছে। সেই সঙ্গে ঘনকুয়াশা আর হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণে বাড়াচ্ছে। শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা বুল্লি বেগম (২৫) দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন। এ ছাড়া একই ধরনের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দগ্ধ রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বার্ন ইউনিটে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে বর্তমানে অর্ধশতাধিক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে আট জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এ হামিদ পলাশ একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগুন পোহাতে গিয়ে প্রতি দিন গড়ে পাঁচ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। দগ্ধদের সবাই নারী ও শিশু। সে জন্য আগুন পোহাতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে অথবা এর থেকে বিরত থাকতে হবে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, তাপমাত্রা গত তিন দিন ধরে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। সবচেয়ে সমস্যা হয়েছে, হিমেল বাতাসে যা শীতের তীব্রতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
এদিকে, চিকিৎসকরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের ঘরের বাইরে বের না করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে বুল্লি বেগম রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মারা গেছে। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি এলাকায়। বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. এম এ হামিদ পলাশ জানান, তার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল।
অপরদিকে, গত তিন দিনে নিউমোনিয়া আর ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭-এ। হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ড এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তিল ধারণের জায়গা নেই। ফলে আক্রান্ত শিশুদের একটি শয্যায় তিন জন করে শিশুকে ভর্তি দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুটি ওয়ার্ডে ৬০০ শিশু চিকিৎসাধীন আছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, জায়গা না পেয়ে শতাধিক শিশুকে মেঝেতে রাখা হয়েছে। সরেজমিন শিশু ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে, একটি শয্যায় অসুস্থ তিন শিশুকে ভর্তি করে অমানবিকভাবে রাখা হয়েছে। একটা স্যালাইনে তিনটি পাইপ দিয়ে তিনটি শিশুকে দেওয়া হচ্ছে।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছে, হাসপাতাল থেকে স্যালাইন এমনকি সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে সহায় সম্বলহীন পরিবারগুলো অর্থের অভাবে তাদের অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা করাতে পারছে না।
সার্বিক বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে শয্যার চেয়ে তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।









