বোরো ধান আবাদের ভরা মৌসুমে একের পর এক চুরি ও ডাকাতি হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও সেচ পাম্প। ফলে এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে ফসলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে দিতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ, ফলে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।
বুধবার (১২ এপ্রিল) বিকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিরামপুর অগভীর নলকূপ সমবায় সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ। এ সময় ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন, আবু তাহের, শাজাহান ফেরদৌস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কৃষকদের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে জমা দেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত দেড় মাসের ব্যবধানে বিরামপুরের পলিপ্রায়গপুর নামক একটি ইউনিয়নেই চুরি ও ডাকাতি হয়েছে পাঁচটি ট্রান্সফরমার ও একটি বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পলিপ্রায়গপুর ইউনিয়নের টাটকাপুর এলাকার মৃত আব্দুল্লাহেল ওয়াছেক শাহের ছেলে শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভর নৈশপ্রহরীকে বেঁধে রেখে ট্রান্সফরমার ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভর জমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত একটি ১০ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।পরের দিন তিনি থানায় একটি অভিযোগ দেন। গত ১৩ মার্চ রাত ১টার দিকে একই ইউনিয়নের উত্তর ভগবতীপুর এলাকার কৃষক হযরত আলীকে বেঁধে রেখে একটি ট্রান্সফরমার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনিও বিরামপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, কিন্তু তারপরও আরও কয়েকটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বিরামপুর উপজেলার খয়ারপাড়ার এলাকার কৃষক আবু তাহেরকে বেঁধে রেখে তার ট্রান্সফরমারটিও নিয়ে যাওয়া হয়। একই এলাকার তহিদুল ইসলাম বাবুর একটি ট্রান্সফরামর ও মজিবর রহমান ভুট্টুর একটি সেচ পাম্প রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যায়। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনোভাবেই ট্রান্সফরমার-সেচ পাম্প চুরি ও ডাকাতির ঘটনা থামছে না। এ অবস্থায় কৃষকেরা শঙ্কায় আছে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি আরও বলেন, এখন বোরোর আবাদ চলছে। পাশাপাশি ভুট্টা, টমেটোসহ নানান ফসলেও সেচযন্ত্র দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় কৃষকরা আতঙ্কিত। একটি ট্রান্সফরমার কিনতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাগে। আবার সেচপাম্প কিনতেও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগে। নতুন করে আবার এসব কিনতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও যদি নিশ্চয়তা থাকত যে আর ট্রান্সফরমার বা সেচ পাম্প চুরি হবে না তাহলে কষ্ট করে হলেও কেনা যেতো। এভাবে চলতে থাকলে বোরো মৌসুমের সেচ ব্যবস্থা হুমকিতে পড়বে। এ সময় ট্রান্সফরমার-সেচ পাম্প চুরি বা ডাকাতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
মজিবর রহমান ভুট্টুর স্ত্রী কহিনুর বেগম জানান, ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জানানো হয়েছে। এখনও ট্রান্সফরমার পাইনি। এখন ভুট্টা ক্ষেতে সেচ দিচ্ছি ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে। নতুন করে ট্রান্সফরমার কিনতে হবে, যাতে খরচ ২০-৩০ হাজার টাকা।
হযরত আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম জানান, এখনও ট্রান্সফরমার পাওয়া যায়নি। আবারও ট্রান্সফরমারের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
বিরামপুর থানার ওসি সুমন মহন্ত জানান, আগে যেসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর তদন্ত চলছে।









