অফিস কার্যক্রম চললেও কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। মঙ্গলবার (২ মে) কার্যদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়াই চলেছে দাফতরিক কার্যক্রম। এদিন একাধিকবার অফিস চত্বরে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
বিধি মোতাবেক ছুটির দিন ব্যতীত সব কার্যদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে প্রায়ই এর ব্যত্যয় ঘটে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যাওয়া সদরের বাসিন্দা ও শিক্ষক গফুর বলেন, ‘জমি রেজিস্ট্রির কাজে এসেছি। এসে দেখি অফিসের পতাকার খুঁটি ফাঁকা পড়ে আছে। কিছুটা থমকে গিয়েছিলাম। পরে দেখছি অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে। সাব-রেজিস্ট্রারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত আছেন। কিন্তু তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেননি।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে উৎকোচ নিতে ভুল করেন না। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে ভুলে যান। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার বাসিন্দা মামুন বলেন, ‘আমি জমির একটি কাগজের জন্য সদর রেজিস্ট্রি অফিসে এসেছি। কিন্তু দেখে খুবই অস্বস্তি লাগছে, এই অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। অথচ পতাকা লাগানোর খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। এটা খুবই দুঃখজনক। পতাকা আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। জাতীয় পতাকার বিষয়ে সবার গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
একই দিন দুপুরে সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের প্রবেশ পথের পাশেই জাতীয় পতাকা লাগানোর খুঁটি থাকলেও তাতে পতাকা নেই। ভারপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার ইয়াসির আরাফাতসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত আছেন। সাব-রেজিস্ট্রার ইয়াসির আরাফাত এজলাসে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে অফিস সহকারী দিলিপ কুমার বলেন, ‘ভুলে পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এমনিতে নিয়মিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঈদের পরে অফিস খোলায় আজ ভুলে এমনটা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মোস্তাফিজ আহমেদ বলেন, ‘ওই অফিসে স্থায়ী অফিসার নেই। তারপরও এমনটা হওয়া উচিত হয়নি, ভুলে যাওয়া ঠিক হয়নি। কেন পতাকা উত্তোলন হয়নি, আমি খোঁজ নেবো। নিজেই বিষয়টি মনিরিং করবো।’









