অনুমতি না থাকায় প্রায় দুই মাস ধরে দেশের সবগুলো স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে পেঁয়াজ ও মহিষের মাংস আমদানি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৯ মে) বিকাল ও সন্ধ্যার দিকে দুই দফায় এক ট্রাকে পেঁয়াজ এবং আরেক ট্রাকে মহিষের মাংস আমদানি করা হয়।
তবে, বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তরা জানিয়েছেন, অনুমোদন না থাকায় এসব পেঁয়াজ বাজেয়াপ্ত কিংবা ভারতে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
পেঁয়াজ ও মহিষের মাংস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকার মিডলাইফ প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড। কলকাতার বেলঘরিয়ার মিডলাইফ প্যাকেজিং অ্যান্ড কোম্পানি নামের প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ ও মহিষের মাংস রফতানি করেছে। এক ট্রাকে ২৫ টন পেঁয়াজ ও আরেক ট্রাকে এক টন মহিষের মাংস আমদানি হয়েছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি রোস্তম আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খাদ্যপণ্যগুলো আবার প্যাকেজিং করে বিদেশে রফতানি করা হয়। এসব পণ্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা হয়েছে। খোলা বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়নি। এটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি দিয়ে আমদানির অনুমতি আছে। আমরা কাস্টমস থেকে এসব পণ্য ছাড় করার জন্য সব ডকুমেন্ট সাবমিট করেছি।’
হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনুমতি না থাকায় ১৫ মার্চের পর থেকে সব বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদন দেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। এরপরও আজ বন্দর দিয়ে এক আমদানিকারক ২৫ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। বিষয়টি জানার পর পরীক্ষা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা বলেছেন, যেহেতু এটি কাঁচামাল নয়, সেহেতু আমাদের পক্ষ থেকে ছাড় করার প্রশ্নই আসে না। এখন আমাদের হাতে দুটি অপশন রয়েছে। একটি হলো পেঁয়াজগুলো বাজেয়াপ্ত করা অথবা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে ফেরত পাঠানো। বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারাও বলেছেন, সঙ্গনিরোধ সনদ ছাড়া এটি ছাড় করানো যাবে না।’
হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমদানিকৃত মহিষের মাংসের নমুনা নিয়ে পরীক্ষার জন্য ঢাকার সাভারে পাঠানো হবে। সেইসঙ্গে মাংসগুলো সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নিজ হেফাজতে নিয়ে ফ্রিজে রাখবেন। নমুনা পরীক্ষার ফল এলে বাজারজাতের অনুমতি দেওয়া হবে।’









