দিনাজপুরে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জুন) এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। জেলা আবহাওয়া অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি দিনাজপুরে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।
জেলা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় দিনাজপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিসের ভাষায়, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি হলে মৃদু, ৩৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ বলে। সে হিসেবে জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর আগে বুধবার (৩১ মে) জেলা ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত কয়েকদিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৮-৩৯ ডিগ্রি থাকলেও আজ সর্বোচ্চ ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। বাতাসের আর্দ্রতা ২৪ শতাংশ। আগামী ১০ জুনের মধ্যে জেলায় বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই।’
এদিকে, চলমান তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। অতিরিক্ত গরম আর অব্যাহত লোডশেডিংয়ে মানুষজন অতিষ্ঠ। রাস্তায় কমেছে মানুষের চলাচল। উপার্জনের জন্য কাজে বের হলেও তারা অল্পতেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন।
সদর উপজেলার গোপালপুর এলাকার নয়ন ইসলাম বলেন, ‘সকালে কাজে গেছি। কিন্তু গরমে ঠিকভাবে কাজ করতে পারছিলাম না। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ।’
সদরের ষষ্ঠীতলা এলাকার সিফাত ইসলাম বলেন, ‘আজকে রেলওয়ে বাজার ছিল। বাড়ি থেকে বের হয়েছি, বাজারে গিয়ে একেবারেই খারাপ অবস্থা। প্রচণ্ড গরম আর লোকজনের উপস্থিতি সবমিলিয়ে ঘেমে একাকার অবস্থা। ঠিকভাবে বাজার না করেই বাড়িতে ফিরেছি। এত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার অবস্থা।’
গরমে করণীয় উল্লেখ করে জেলা সিভিল সার্জন এ এইচ এম বোরহানুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘এত গরমে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। বেশি করে পানি খেতে হবে। কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’









