কুড়িগ্রামে প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও ঈদুল আজহায় বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন এমন তথ্য জানিয়েছেন। এমনটা হলে অববাহিকার বাসিন্দারা নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত নদ-নদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ২৪-২৫ জুন থেকে পানি কমতে পারে। পূর্বাভাস মিলে গেলে ঈদের সময় চরাঞ্চলের পানি কমে চলমান পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।’
আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (২২ জুন) কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদে পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে আগামী দুই দিন জেলার উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা, বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন ও চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলোতে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে সাময়িক প্লাবন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ২৪-২৫ জুন থেকে পানির সমতল হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহে এ অঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা নেই বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, বুধবার রাতের পর দুধকুমার নদের পানি কমলেও বৃহস্পতিবার বিকালে আবার বাড়তে শুরু করেছে। ধরলার পানি সামান্য বাড়লেও সারাদিন ব্রহ্মপুত্রের পানি গত কয়েকদিনের তুলনায় অনেকটা স্থিতিশীল ছিল। আজ সন্ধ্যা ৬টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ব্রহ্মপুত্রের পানি নুন খাওয়া গেজ স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই দাগে স্থির আছে বিপৎসীমার ৪৫ ও একই সময়ে চিলমারী গেজ স্টেশনে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলার পানি কিছুটা বেড়ে সেতু পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে কিছুটা কমে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, সার্বিক অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো থেকে এখনও পানিবন্দি পরিবার ও ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে চলমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘এখনও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। যেভাবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে সেটা স্বাভাবিক। নদ-নদীর পানি কমার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি, দুয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করবে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’









