লালমনিরহাটে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে আরও ৯ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নেতার মৃত্যু হয়।
নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) লালমনিরহাট সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং একই উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের বেড়াভাঙা এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম রাজু বলেন, ‘হরতালের সমর্থনে রবিবার সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও পিকেটিং করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আমরা হরতালবিরোধী শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছি। উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের বুড়িরবাজার এলাকায় হরতালবিরোধী মিছিল বের করলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন জাহাঙ্গীর হোসেন। তাকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকালে সেখানে মৃত্যু হয়। তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিএনপির হরতাল প্রতিরোধে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের বুড়িরবাজার এলাকায় শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে যোগ দিতে দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বড়বাড়ি ও মহেন্দ্রনগর থেকে এসে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। সঙ্গে সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীর হোসেন ও মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদসহ ১০ নেতাকর্মী। তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর হোসেন ও রাজু আহম্মেদকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৩টার দিকে জাহাঙ্গীর হোসেনের মৃত্যু হয়।
সদর থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল যাওয়ার আগেই বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। জাহাঙ্গীর হোসেন হত্যায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা বলেন, ‘হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। সংঘর্ষের সময় কাদের হামলায় জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন, তা তদন্ত না করে বিএনপির ওপর দোষ চাপানো ঠিক নয়। আমরা কারও মৃত্যুকে সমর্থন করি না।’
জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসের গডফাদার জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার প্রত্যক্ষ মদতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেন হত্যার ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’








